• বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩২ অপরাহ্ন

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ রোডের দুই পাশে ফুটপাতের ত্রাস চাঁদাবাজ সাইফুল মোল্লার খুঁটির জোর কোথায়?(পর্ব-৩)

অনলাইন ভার্সন
অনলাইন ভার্সন
আপডেটঃ : সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০২৩

বিশেষ প্রতিনিধি

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ ফুটপাতে চাঁদাবাজের স্বঘোষিত মহারতি প্রায় ডজন খানেক মামলার আসামি সাইফুল মোল্লার চাঁদাবাজির সংবাদ ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরেও বন্ধ হয়নি সাইফুল মোল্লার চাঁদাবাজি।এই নিয়ে সচেতন নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ রোডে চলাচলকারী বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায় যে কুখ্যাত ফুটপাতের চাঁদাবাজ সাইফুল মোল্লার চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা বলেন ভাবতেই অবাক লাগে সাইফুল মোল্লার মত একজন চাঁদাবাজ দেশের স্বনামধন্য আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে রাস্তা দখল করে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে দীর্ঘদিন যাবত চাঁদাবাজি করে আসছে প্রশাসনের নাকের ডগায় তাই আমাদের মতো সাধারণ মানুষের প্রশ্ন সাইফুল মোল্লার খুঁটির জোর কোথায়? তিনি যেন কারো বা কোন কিছুরই তোয়াক্কা না করে ফুটপাতে হকার বসিয়ে জনদূর্ভোগ বাড়িয়ে চাঁদাবাজির কাড়িকাড়ি টাকা হাতিয়ে নিতে বেপরোয়া। ক্ষেত্রে বিশেষে সংশ্লিস্ট ক্ষমতাবান অনেকেসহ সচেতনদের সবাই ভুক্তভোগী হয়েও নির্বিকার। যেন তারা বশিকরনের জালে আটকা অথবা চোখ রাঙ্গানির ভয়ে বোবা। আর ওই তালিকায় রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের ভাংচুর দলের অসাধু লোকজন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স,স্থানীয় নেতাসহ কথিত সংবাদকর্মীরাও। এদের কেউই যেন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস রাখে না। আর এ সুযোগে চাঁদাবাজ সাইফুল মোল্লা হকারসহ সবার মাথায় কাঠাল রেখে চাঁদাবাজির টাকায় আলিশান জীবনযাপন করছে। পথচারী ভোগান্তিকে রুপ দিচ্ছে- চাঁদাবাজি ও ধান্ধাবাজিতে। মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ওই ফুটপাত চাঁদার অপ্রতিরোধ্য দৌরাত্মের শিকার। সেখানকার ফুটপাত চাঁদাবাজির স্বঘোষিত নয়া ত্রাস সাইফুল মোল্লা ওরফে টাউট সাইফুল (৫৫)। প্রায় একযুগের বেশী সময় ধরে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ সড়কের ফুটপাতসহ হলিডে মার্কেটের নামে মূল সড়কে পর্যন্ত বাজার বসিয়ে নির্বিঘ্নে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। ওই ফুটপাতের জায়গা ফুট মেপে বিক্রি ও ভাড়ার সাথে সড়কের জায়গাও একইভাবে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। সাইফুল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গার ৬ফুট/৭ফুট চৌকির জায়গা এককালিন এক -দুইলাখ টাকায় বিক্রি ও দৈনিক তিন’শ-পাঁচ’শ টাকা আদায় করে আসছে। এককালিন মোটা টাকার বাইরে হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ৩০ হাজার হারে পেমেন্টের নামে মাসে প্রায় নয় লক্ষাধিক ও হলিডে মার্কেটের নামে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা আদায় করে আসছে। এভাবে বেশ আগেই রাজধানীর জুরাইনে চার-তলা বাড়ি,গাড়ি,একাধিক প্লট, ফ্ল্যাটের মালিকসহ গ্রামের বাড়িতে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে আগেই টাউট সাইফুলের জায়গায় সাইফুল বা মোল্লাসাব বনে গেছে। বিগত জরুরি অবস্থায় সাইফুল মোল্লা ধরাশায়ী হলে ওই ফুটপাত উচ্ছেদ ও হকারদের চাঁদাবিহীন সপ্তাহে একদিন ওই সড়কে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়। কিন্তু সে অবস্থা বেশী দিন স্থায়ী থাকতে দেয়নি ওই চাঁদাবাজ। বেশ আগের থেকেই সেখানেও সাইফুলের চাঁদাবাজি চলে আসছিল। তবে মাঝে মধ্যে নানা কারণে তাতে বাগড়া পড়ে। বিগত প্রায় দু বছর ধরে ওই সড়কের বিস্তৃত জায়গা ফুট হিসেবে বিক্রি,ভাড়া দিয়ে আসছে। সেই সাথে কিনেছেন পুলিশের গাড়ির রঙ্গের গাড়ি। সপ্তান্তের ওই হলিডে মার্কেটের প্রায় পাঁচ শতাধিক হকারের কাছ থেকে গড়ে প্রায় আড়াই-তিন লাখ টাকা আদায় করেছে। সপ্তাহের হলিডে মার্কেট ছাড়া প্রথম সারির ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইডিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজের সড়কের দু পাশের ফুটপাত ভাড়া ও বিক্রির সাথে স্কুলের অলি-গলির কোন ফাক-ফোকর পর্যন্ত ওই চাঁদার বাণিজ্যের কবলের বাহিরে নয়। আর চাঁদা তোলার দায়িত্বে রয়েছে-জন কয়েক কর্মচারী ও তার ছেলে শিপলু (২৫)। সাইফুল মোল্লা নিয়োমিত কমান্ডো স্টাইলে ওই ফুটপাত ঘেষে গাড়িতে বসে থাকেন। আর তার এ উদ্ভোট আচরন ঘিরে রয়েছে নানান গুঞ্জন। সাইফুল মোল্লার নামে মতিঝিল থানায় রয়েছে একাধিক মামলা।কেউ কেউ বলেন-সাইফুল মোল্লার হাত অনেক লম্বা। বড় থেকে ছোট পর্যন্ত সবাইকে ম্যানেজ করে রেখেছে তাই তিনি ফুটপাতের চাঁদাবাজ হয়েও অনেকের চেয়ে প্রকাশ্য ও থোড়াই কেয়ার ভাবের। এ প্রসঙ্গে তার সাথে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই জানে বার কুতুবের জায়গা আইডিয়াল জোন। এখানে সবাই টিকতে পারে না। আমি চাঁদা তুলি সবাই জানে। আমি সিংহ থেকে ছাগলের বাচ্চা পর্যন্ত পালি। তাই আমি টিকে আছি ইনশাআল্লাহ আগামীতেও থাকবো কেউ আমার কিচ্ছু করতে পারবে না। আর এভাবে গোটা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাতে চাঁদাবাজ সাইফুল মোল্লা হকার বসিয়ে পুলিশের নামে প্রতি মাসে আদায় করছে প্রায় কোটির বেশী টাকা। নাম পুলিশের হলেও তাতে শরীকদার রয়েছে নানান শ্রেণির ছদ্মবেশীরা। (অনুসন্ধান অব্যাহত)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

You cannot copy content of this page

You cannot copy content of this page