পান্থপথে অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণ: ফোনালাপে ‘ঘুষ’ প্রসঙ্গ, রহস্যজনক নীরবতায় রাজউক
- আপডেট: ১২:৪৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / ৪
পান্থপথে অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণ: ফোনালাপে ‘ঘুষ’ প্রসঙ্গ, রহস্যজনক নীরবতায় রাজউক
দ্বিতীয় পর্ব
মোঃআল আমিন :
রাজধানীর পান্থপথের হোল্ডিং নম্বর ৫৭/১০-এ অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্ত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান “MND Construction Limited”-এর ভবন নির্মাণ নিয়ে অনুসন্ধানে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ভবনের ম্যানেজার পরিচয়দানকারী মান্নান সাহেবের ফোনালাপে উঠে আসে রাজউকের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে “টাকা দেওয়ার” প্রসঙ্গ।
গণমাধ্যমকর্মীরা ভবনটির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ম্যানেজার মান্নানের কাছে ফোন নম্বর চাইলে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, “রাজউকের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে টাকা দিতে হয়, তাই মালিকের ফোন নম্বর বা সরাসরি যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া যাবে না।”
এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন তোলেন— যদি ভবনটির বৈধ অনুমোদন ও নকশা থেকে থাকে, তাহলে রাজউক কর্মকর্তাদের টাকা দেওয়ার প্রয়োজন কেন? আর কেনইবা বিভিন্ন কর্মকর্তা টাকা চাইবেন? এমন প্রশ্নের পর কথোপকথনে ভবনটির নির্মাণকাজ নিয়ে আরও অসঙ্গতির বিষয় সামনে আসে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবনটি রাজউকের অনুমোদিত নকশা কিংবা প্ল্যান বহির্ভূতভাবে প্রায় ৯ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভবনের চারপাশে একাধিক “ডিভিয়েশন” বা নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত নিয়ম মেনে আবেদন করা হলেও এমন নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতো।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ না করতে বিভিন্ন পরিচয়ে গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। অনুসন্ধান বন্ধ করতে নানাভাবে যোগাযোগ, অনুরোধ এবং চাপ প্রয়োগেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে রাজউকের জোন ৫/২-এর ইন্সপেক্টর তৌহিদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীতে অনুমোদনহীন ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের পেছনে যদি প্রশাসনিক দুর্বলতা বা অনিয়ম থেকে থাকে, তবে তা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়— বরং নগরবাসীর জীবনের জন্যও মারাত্মক হুমকি। অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প কিংবা অন্যান্য দুর্যোগে এ ধরনের ভবন বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ভবনটির বৈধতা যাচাই, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশ্ন তুলেছেন— রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এত বড় একটি বহুতল ভবন নির্মাণকাজ কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেল?




















