১১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

বরিশাল নদীবন্দরে ইবনাত-২ লঞ্চ ভেড়াতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট: ১১:২০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২

বরিশাল নদীবন্দরে ইবনাত-২ লঞ্চ ভেড়াতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

রুট পারমিট থাকা সত্ত্বেও যাত্রী ওঠানামায় ভোগান্তি, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশাল-ভোলা নৌরুটে চলাচলকারী এমভি ইবনাত-২ লঞ্চ নির্ধারিত স্থানে ভেড়াতে না দেওয়ায় যাত্রী ওঠানামায় চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের দাবি, রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও বরিশাল নদীবন্দরের বিআইডব্লিউটিএর একতলা লঞ্চ টার্মিনালে নির্ধারিত স্থানে লঞ্চটি ভেড়াতে পারছেন না তারা। এতে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের লঞ্চ থেকে নামতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে বরিশাল নদীবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, ভোলা থেকে যাত্রী নিয়ে আসা এমভি ইবনাত-২ নির্ধারিত স্থানে ভেড়াতে না পারায় যাত্রীদের অন্য একটি লঞ্চের পেছন দিয়ে ঘুরে টার্মিনালে উঠতে হচ্ছে। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগে পড়তে দেখা যায়।

লঞ্চ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, টার্মিনালের নির্ধারিত জায়গায় রুট পারমিটবিহীন একটি লঞ্চ নোঙর করে রাখার কারণে ইবনাত-২ নির্ধারিত স্থানে ভেড়াতে পারছে না। ফলে যাত্রীদের এক লঞ্চ থেকে অন্য লঞ্চের ওপর দিয়ে হেঁটে টার্মিনালে উঠতে হচ্ছে।

ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী ওঠানামা

ইবনাত-২ লঞ্চের মাস্টার মো. রাকিব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “ভোলা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশাল ঘাটে পৌঁছালে আমাদের লঞ্চ নির্ধারিত স্থানে নোঙর করতে দেওয়া হয় না। যে স্থানে লঞ্চ ভেড়ানোর কথা, সেখানে রুট পারমিটবিহীন লঞ্চ বেঁধে রাখা হয়। ফলে আমাদের যাত্রীদের অন্য লঞ্চের ওপর দিয়ে হেঁটে ঘাটে উঠতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এভাবে যাত্রী ওঠানামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পা পিছলে নদীতে পড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

লঞ্চ কর্তৃপক্ষের দাবি, একাধিক লঞ্চ পার হয়ে যাত্রীদের টার্মিনালে উঠতে হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

দ্রুত সমাধানের দাবি

লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামা নিশ্চিত করতে প্রতিটি অনুমোদিত লঞ্চের জন্য নির্ধারিত জায়গা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টার্মিনালে কোন লঞ্চ কোথায় নোঙর করতে পারবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি থাকা জরুরি।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে নির্ধারিত জায়গায় ইবনাত-২ লঞ্চ ভেড়ানোর সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বরিশাল নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০
বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

বরিশাল নদীবন্দরে ইবনাত-২ লঞ্চ ভেড়াতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট: ১১:২০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

বরিশাল নদীবন্দরে ইবনাত-২ লঞ্চ ভেড়াতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

রুট পারমিট থাকা সত্ত্বেও যাত্রী ওঠানামায় ভোগান্তি, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশাল-ভোলা নৌরুটে চলাচলকারী এমভি ইবনাত-২ লঞ্চ নির্ধারিত স্থানে ভেড়াতে না দেওয়ায় যাত্রী ওঠানামায় চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের দাবি, রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও বরিশাল নদীবন্দরের বিআইডব্লিউটিএর একতলা লঞ্চ টার্মিনালে নির্ধারিত স্থানে লঞ্চটি ভেড়াতে পারছেন না তারা। এতে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের লঞ্চ থেকে নামতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে বরিশাল নদীবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, ভোলা থেকে যাত্রী নিয়ে আসা এমভি ইবনাত-২ নির্ধারিত স্থানে ভেড়াতে না পারায় যাত্রীদের অন্য একটি লঞ্চের পেছন দিয়ে ঘুরে টার্মিনালে উঠতে হচ্ছে। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগে পড়তে দেখা যায়।

লঞ্চ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, টার্মিনালের নির্ধারিত জায়গায় রুট পারমিটবিহীন একটি লঞ্চ নোঙর করে রাখার কারণে ইবনাত-২ নির্ধারিত স্থানে ভেড়াতে পারছে না। ফলে যাত্রীদের এক লঞ্চ থেকে অন্য লঞ্চের ওপর দিয়ে হেঁটে টার্মিনালে উঠতে হচ্ছে।

ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী ওঠানামা

ইবনাত-২ লঞ্চের মাস্টার মো. রাকিব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “ভোলা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশাল ঘাটে পৌঁছালে আমাদের লঞ্চ নির্ধারিত স্থানে নোঙর করতে দেওয়া হয় না। যে স্থানে লঞ্চ ভেড়ানোর কথা, সেখানে রুট পারমিটবিহীন লঞ্চ বেঁধে রাখা হয়। ফলে আমাদের যাত্রীদের অন্য লঞ্চের ওপর দিয়ে হেঁটে ঘাটে উঠতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এভাবে যাত্রী ওঠানামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পা পিছলে নদীতে পড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

লঞ্চ কর্তৃপক্ষের দাবি, একাধিক লঞ্চ পার হয়ে যাত্রীদের টার্মিনালে উঠতে হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

দ্রুত সমাধানের দাবি

লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামা নিশ্চিত করতে প্রতিটি অনুমোদিত লঞ্চের জন্য নির্ধারিত জায়গা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টার্মিনালে কোন লঞ্চ কোথায় নোঙর করতে পারবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি থাকা জরুরি।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে নির্ধারিত জায়গায় ইবনাত-২ লঞ্চ ভেড়ানোর সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বরিশাল নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।