হাজিপুরে ট্রান্সফরমার চুরি চক্রের তৎপরতা? হাতেনাতে দুইজন আটক, পরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট: ১২:৫০:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ৭
হাজিপুরে ট্রান্সফরমার চুরি চক্রের তৎপরতা? হাতেনাতে দুইজন আটক, পরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
হাজিপুরে বৈদ্যুতিক তার চুরি নিয়ে ক্ষোভ | স্থানীয় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ‘আশ্রয়-প্রশ্রয়ের’ অভিযোগ | তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর
আল আমিন :
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ৫ নম্বর নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজিপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগে রুহুল ফকির (৫০) ও লিমন মুন্সী (৩০) নামে দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটকের দাবি করেছেন স্থানীয়রা। গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে চুরির সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষ তাদের আটক করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, আটকের পর রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত ওই দুই ব্যক্তিকে সাধারণ মানুষ নিজেদের হেফাজতে রাখেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবং স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সমাজসেবক মাওলানা হারুন আর রশিদের অভিযোগ, চুরির ঘটনায় আটক দুই ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় সাধারণ মানুষ আটকে রাখলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ এ ধরনের ঘটনা দেখলেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহী হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
আগের চুরির সঙ্গেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাজিপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় এর আগেও একাধিকবার বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় আটক রুহুল ফকির ও লিমন মুন্সীর বিরুদ্ধে অতীতের এসব চুরির সঙ্গেও সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
তবে অতীতের এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক নথি প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একজন ইউপি সদস্য দীর্ঘদিন ধরে কথিত এই চক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর কয়েকজনের দাবি, ওই ইউপি সদস্যের প্রভাব ও সহযোগিতার কারণে চুরি-সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলেও অভিযুক্তরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বর্তমানেও ওই ইউপি সদস্য তাদের প্রতি একই ধরনের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁর প্রভাবেই এলাকায় চুরির মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের বক্তব্য প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের দাবি, চুরির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে সাধারণ মানুষ আটক করার পর বিষয়টি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও দীর্ঘ সময়েও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—চুরির অভিযোগে কাউকে হাতেনাতে আটক করার দাবি সত্য হলে কেন তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত প্রক্রিয়ায় নেওয়া হলো না? সাধারণ মানুষের হাতে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, চুরি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, অভিযোগের তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রভাবশালী ব্যক্তি যদি অভিযুক্তদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন, তদন্তের মাধ্যমে তারও সত্যতা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তদন্তের দাবি
হাজিপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ, পূর্বের চুরির সঙ্গে কথিত সম্পৃক্ততা, দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটকের দাবি এবং পরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলের ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ গণমাধ্যমের হাতে রয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী অংশে প্রকাশ করা হবে।











