০৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

রাজনৈতিক মামলায় নিরপরাধদের নাম প্রত্যাহার হবে এক মাসে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট: ০৯:০৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • /

রাজনৈতিক মামলায় নিরপরাধদের নাম প্রত্যাহার হবে এক মাসে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া কিছু মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার ইঙ্গিত দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই শেষে নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে অস্ত্র লাইসেন্স যাচাই, ঈদযাত্রা নিরাপত্তা ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে মামলার তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এক মাসের মধ্যে যাচাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে না, তাদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা হয়েছে। আমরা চাই না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হোক। তাই দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্ত্রী আরও জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলাগুলোও পর্যালোচনার আওতায় আনা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অস্ত্র লাইসেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া লাইসেন্সগুলো পুনঃযাচাই করা হবে। নির্বাচনকালে জমা দেওয়া অস্ত্র ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।

তিনি জানান, “নির্বাচনের আগে প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সধারী অস্ত্র জমা পড়েনি। এগুলো উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠনের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মহাসড়ক ও রেলপথের পাশে পশুর হাট বসতে না দেওয়া, জাল নোট শনাক্তে মেশিন ব্যবহার, পুলিশের বডি ক্যামেরা চালু এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

কোরবানির চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে সাত দিন লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করতে হবে এবং সরকার বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা নেই। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিজিবিকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অনলাইন জুয়া ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোকেও যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক মামলার সমাধানের উদ্যোগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, ঈদ নিরাপত্তা ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের এই পদক্ষেপগুলো সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০
বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

রাজনৈতিক মামলায় নিরপরাধদের নাম প্রত্যাহার হবে এক মাসে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট: ০৯:০৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

রাজনৈতিক মামলায় নিরপরাধদের নাম প্রত্যাহার হবে এক মাসে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া কিছু মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার ইঙ্গিত দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই শেষে নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে অস্ত্র লাইসেন্স যাচাই, ঈদযাত্রা নিরাপত্তা ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে মামলার তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এক মাসের মধ্যে যাচাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে না, তাদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা হয়েছে। আমরা চাই না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হোক। তাই দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্ত্রী আরও জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলাগুলোও পর্যালোচনার আওতায় আনা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অস্ত্র লাইসেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া লাইসেন্সগুলো পুনঃযাচাই করা হবে। নির্বাচনকালে জমা দেওয়া অস্ত্র ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।

তিনি জানান, “নির্বাচনের আগে প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সধারী অস্ত্র জমা পড়েনি। এগুলো উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠনের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মহাসড়ক ও রেলপথের পাশে পশুর হাট বসতে না দেওয়া, জাল নোট শনাক্তে মেশিন ব্যবহার, পুলিশের বডি ক্যামেরা চালু এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

কোরবানির চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে সাত দিন লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করতে হবে এবং সরকার বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা নেই। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিজিবিকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অনলাইন জুয়া ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোকেও যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক মামলার সমাধানের উদ্যোগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, ঈদ নিরাপত্তা ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের এই পদক্ষেপগুলো সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে।