আবহাওয়া অনুকূলে, লিচুর বাম্পার ফলনে কয়েক কোটি টাকার সম্ভাবনা
- আপডেট: ০৮:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / ০
আবহাওয়া অনুকূলে, লিচুর বাম্পার ফলনে কয়েক কোটি টাকার সম্ভাবনা
বিশ্বজিৎ কর ( মৌলভীবাজার প্রতিনিধি )
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পাহার বর্ষিজোড়ায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাহাড়-টিলা আর সমতল ভূমিতে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় উন্নত জাতের রসালো লিচু গাছে গাছে ঝুলছে। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে উঠেছে ফলটি, চাহিদা থাকায় কেনাবেচাও জমে উঠেছে।
পাহাড়-টিলায় সারি সারি লিচুগাছ। কোথাও বাড়ির আঙিনাজুড়ে ১০-১২ ফুট উঁচু গাছ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে। গাছে অসংখ্য পাকা লিচু নামাতে ব্যস্ত চাষিরা। ভোর না হতেই বাগানে বাগানে জড়ো হচ্ছেন পাইকাররা।
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, এ বছর জেলার ১৩০টি বাগানের ২৫২ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। উৎপাদন ১ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন। এ বছর লিচু বিক্রি থেকে কয়েক কোটি টাকা আয় হবে চাষিদের। মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় সব উপজেলাতেই কমবেশি লিচু চাষ হয়েছে।
সদর উপজেলায় বর্ষিজুড়া, জগন্নাথপুর, শ্যামেরকোনা, কাগাবলা ছাড়াও কুলাউড়া, বড়লেখা, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের পাহাড়-টিলায় ভালো ফলন হয়েছে। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বারী-২, বারী-৩ ও বোম্বাই জাতের লিচুও আছে, তবে পরিমাণে কম।
বর্ষিজুড়ার চাষি আব্দুল মুহিব বলেন, “এবারও ফলন ভালো। আগে বাগান পাইকারের কাছে বিক্রি করতাম, এবার নিজেরাই বিক্রি করছি। প্রতিদিন পাইকার আসছে, দামও ভালো পাচ্ছি।” পাইকার রামলাল ১৫ হাজার টাকায় ছোট বাগান কিনে লিচু নামাচ্ছেন। তবে অতিবৃষ্টি আর বন্যপ্রাণীর আক্রমণের আশঙ্কা করছেন তিনি।
এখন মৌলভীবাজার শহরেই প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার লিচু বিক্রি হচ্ছে। একশ লিচু ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বন্যপ্রাণী ও বৃষ্টির কারণে অনেকে আগেভাগেই লিচু বিক্রি করেছেন ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, মাঠপর্যায়ে তদারকি ও পোকামাকড় দমনে সময়মতো পরামর্শ দেওয়ায় ভালো ফলন এসেছে। মাটি-আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় লিচু চাষ সম্প্রসারণে চাষিদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ছবি : পাতা-ডালসহ স্তূপ হয়ে আছে গাঢ় লাল পাকা লিচু। পরিবারের সবাই মিলে নেমেছে বাগানের কাজে।











