অর্থ বিল-২০২৬ পাস: করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি, একাধিক বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাহার
- আপডেট: ১০:০৬:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / ৬
অর্থ বিল-২০২৬ পাস: করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি, একাধিক বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাহার
সংসদ ভবন, ২৯ জুন: জাতীয় সংসদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী যুক্ত করে অর্থ বিল-২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। সংশোধনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার।
সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও বাজেট আলোচনায় পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে সরকার বাজেটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে সংশোধনী এনেছে।
করমুক্ত আয়ের নতুন সীমা
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী—
- ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছর: করমুক্ত আয় ৪ লাখ টাকা।
- ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছর: ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
- ২০৩০-৩১ অর্থবছর: ৫ লাখ টাকা।
এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে এই সীমা আরও কম নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বিতর্কিত কয়েকটি প্রস্তাব প্রত্যাহার
জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় সরকার কয়েকটি প্রস্তাব প্রত্যাহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব।
- অধিকাংশ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব।
- বণ্টন দলিল (পার্টিশন ডিড) ও নামজারি (মিউটেশন) নিবন্ধনের জন্য টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জমির প্রকৃত বাজারমূল্যের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে মৌজা মূল্যে নিবন্ধন হওয়ায় করদাতাদের জটিলতা দূর করার উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিধান আনা হয়েছিল। তবে জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শিক্ষা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য স্বস্তি
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
এছাড়া পার্বত্য তিন জেলা ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর আওতায় ব্যবসা, কৃষি ও বেতনভিত্তিক আয়ও করমুক্ত থাকবে।
শিল্প ও কৃষি খাতে শুল্ক ছাড়
দেশীয় শিল্পের বিকাশে একাধিক পণ্যের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- চিংড়ি শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার।
- পিভিসি ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ।
- অপরিশোধিত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ।
- ওষুধ ও শিল্পে ব্যবহৃত আমদানিকৃত মধুর ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার।
- ফায়ার ব্রিক, ফায়ার ডোরের কাঁচামাল এবং বৈদ্যুতিক কেবল তৈরির কিছু কাঁচামালের ওপর শুল্ক অব্যাহতি।
ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ভ্যাট কমল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন মার্কেটপ্লেসসহ ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের আশা, এতে বৈধ অর্থপ্রদানের প্রবণতা বাড়বে এবং কর আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।
আরও যেসব সুবিধা
- স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাসের ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ।
- এলইডি বাতি ও প্রিফ্যাব্রিকেটেড ভবনের কাঁচামালের শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি।
- মাছ সরবরাহে পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি।
- বিটিআরসির সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি।
- সোনা, প্লাটিনাম ও হীরার গহনার ওপর নির্ধারিত ভ্যাট ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং রুপার গহনার ওপর ১০০ টাকা নির্ধারণ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব সংশোধনের মাধ্যমে করব্যবস্থাকে আরও সহজ, ব্যবসাবান্ধব ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক গতি আসবে বলে সরকার আশা করছে।











