০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

চাকরির প্রলোভনে “নিজ স্বজাতি কৃতক” মারমা নারীকে চট্টগ্রামে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ; প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট: ০৯:৫২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • /

চাকরির প্রলোভনে “নিজ স্বজাতি কৃতক” মারমা নারীকে চট্টগ্রামে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ; প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মোঃ রবিউল ইসলাম, (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার এক মারমা নারীকে (৩৫) চট্টগ্রামে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি ম্রাসা মারমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের গণরোষের মুখে পড়লে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম কুকিছড়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১২ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর তিনি পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। একই এলাকার বাসিন্দা ম্রাসা মারমা তাকে চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

সেই প্রলোভনে গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ সকালে ম্রাসা মারমা ভুক্তভোগীকে চট্টগ্রামে নিয়ে যান। পরে বিকেলে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন সুজানগর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রাখা হয়। সেখানে ম্রাসা মারমাসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাতের খাবার শেষে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখানোর কথা বলে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে প্রথমে ম্রাসা মারমা এবং পরবর্তীতে তার সহযোগীরা পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যায়।

পরদিন ১৪ জুন সকালে জ্ঞান ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগী স্বজনদের বিষয়টি জানালে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজন অংশেখ মারমা বাদী হয়ে গুইমারা থানার মামলা নং-০৩, তারিখ: ১৮/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০২৫)-এর ৯(৩) ধারায় রুজু করা হয়েছে। মামলায় ম্রাসা মারমা (৪০) ও উচাইহ্লা মারমা (৩০)-কে নামীয় আসামি এবং আরও দুইজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত ১৬ জুন স্থানীয়রা প্রধান অভিযুক্ত ম্রাসা মারমাকে আটক করে রাখে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করলে সিন্দুকছড়ি জোনের আওতাধীন জালিয়াপাড়া আর্মি ক্যাম্পের একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেনাবাহিনী অভিযুক্তকে উদ্ধার করে গুইমারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সোহরাওয়ার্দী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলার প্রধান আসামি ম্রাসা মারমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলার অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০
বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

চাকরির প্রলোভনে “নিজ স্বজাতি কৃতক” মারমা নারীকে চট্টগ্রামে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ; প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট: ০৯:৫২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

চাকরির প্রলোভনে “নিজ স্বজাতি কৃতক” মারমা নারীকে চট্টগ্রামে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ; প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মোঃ রবিউল ইসলাম, (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার এক মারমা নারীকে (৩৫) চট্টগ্রামে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি ম্রাসা মারমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের গণরোষের মুখে পড়লে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম কুকিছড়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১২ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর তিনি পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। একই এলাকার বাসিন্দা ম্রাসা মারমা তাকে চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

সেই প্রলোভনে গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ সকালে ম্রাসা মারমা ভুক্তভোগীকে চট্টগ্রামে নিয়ে যান। পরে বিকেলে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন সুজানগর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রাখা হয়। সেখানে ম্রাসা মারমাসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাতের খাবার শেষে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখানোর কথা বলে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে প্রথমে ম্রাসা মারমা এবং পরবর্তীতে তার সহযোগীরা পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যায়।

পরদিন ১৪ জুন সকালে জ্ঞান ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগী স্বজনদের বিষয়টি জানালে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজন অংশেখ মারমা বাদী হয়ে গুইমারা থানার মামলা নং-০৩, তারিখ: ১৮/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০২৫)-এর ৯(৩) ধারায় রুজু করা হয়েছে। মামলায় ম্রাসা মারমা (৪০) ও উচাইহ্লা মারমা (৩০)-কে নামীয় আসামি এবং আরও দুইজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত ১৬ জুন স্থানীয়রা প্রধান অভিযুক্ত ম্রাসা মারমাকে আটক করে রাখে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করলে সিন্দুকছড়ি জোনের আওতাধীন জালিয়াপাড়া আর্মি ক্যাম্পের একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেনাবাহিনী অভিযুক্তকে উদ্ধার করে গুইমারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সোহরাওয়ার্দী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলার প্রধান আসামি ম্রাসা মারমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলার অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।