১০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রাজউকের নাকের ডগায় বসে রাজধানীর মিরপুরে ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে বহুতল বিশিষ্ট ভবন মির্মাণ: চরম নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট: ০৬:১৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২১৬

নার্গিস রুবি: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জোনাল অফিস ৩/১ এর আওতাধীন এলাকায় ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মিরপুর-১২, মুসলিম বাজার, মেইন রোড, ব্লক-ডি এর ২৩/২৫, রোড-১৯ ঠিকানায় সাড়ে ৩ কাঠা জমির ওপর নির্মিতব্য এই ভবনের ৫ তলা ছাদ ঢালাইয়ের কাজ বর্তমানে চলমান। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভবনটির নির্মাণকাজে রাজউক অনুমোদিত নকশা চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং শ্রমিক ও পথচারীদের জন্য ন্যূনতম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেই।

গুরুতর অনিয়ম: নকশা বিচ্যুতি ও সেটব্যাক লঙ্ঘন:

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ভবনটির চারদিকে অতি মাত্রায় নকশা বিচ্যুতি (ডেভিয়েশন) ঘটিয়ে অনুমোদনবিহীন সম্প্রসারণ করা হয়েছে। স্থানীয় ও সরেজমিন সূত্রে জানা যায়, ভবনটিতে সেটব্যাক আইন মানা হয়নি। প্রতিটি ফ্লোরে নকশার বাইরে অতিরিক্ত বারান্দা ও ছাদ সংযুক্ত করা হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই ধরনের অনিয়ম ভবনের ওপর অতিরিক্ত লোড সৃষ্টি করে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করতে পারে, যা ঢাকার মতো ভূমিকম্পপ্রবণ শহরের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ।

শ্রমিক ও পথচারীরা ঝুঁকিতে: নেই নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও তথ্যফলক:

নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত সেফটি নেট, সেফটি গার্ড বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম—এর কোনো কিছুই নেই। ভবনের সামনে প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত কোনো সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়নি। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) অনুসারে এটি সুস্পষ্ট আইন লঙ্ঘন। নিরাপত্তাহীন নির্মাণকাজের কারণে একদিকে যেমন শ্রমিকদের জীবনঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি পথচারীরাও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আছেন।

নগরবিদদের কঠোর সতর্কবার্তা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ:

নগর পরিকল্পনাবিদরা এই ধরনের নির্মাণকাজে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, দুর্বল তদারকি এবং নকশা লঙ্ঘনের প্রবণতা ভবিষ্যতে ভয়াবহ ট্র্যাজেডির কারণ হতে পারে। একজন নগরবিদ মন্তব্য করেন, “দুর্বল তদারকি ও দুর্নীতি নগর পরিকল্পনাকে বিপর্যস্ত করছে; যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে কাজ বন্ধ করা, স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, “এটি শুধু একটি ভবনের অনিয়ম নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বড় উদাহরণ।”

রাজউকের প্রতিক্রিয়া:

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের অথরাইজড অফিসার আশিক আহমেদ এবং ইমারত পরিদর্শক আখতারুজ্জামান ফয়েজ জানান, তারা অভিযোগটি খতিয়ে দেখবেন এবং সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে রিপোর্ট প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত ভবন মালিকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে স্থাপনা নির্মাণে যথাযথ আইন প্রয়োগ ও তদারকি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়বে। এই নকশা লঙ্ঘন ও নিরাপত্তাহীন নির্মাণ কাজ নগর ব্যবস্থাপনার ওপর বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০
বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

রাজউকের নাকের ডগায় বসে রাজধানীর মিরপুরে ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে বহুতল বিশিষ্ট ভবন মির্মাণ: চরম নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

আপডেট: ০৬:১৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

নার্গিস রুবি: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জোনাল অফিস ৩/১ এর আওতাধীন এলাকায় ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মিরপুর-১২, মুসলিম বাজার, মেইন রোড, ব্লক-ডি এর ২৩/২৫, রোড-১৯ ঠিকানায় সাড়ে ৩ কাঠা জমির ওপর নির্মিতব্য এই ভবনের ৫ তলা ছাদ ঢালাইয়ের কাজ বর্তমানে চলমান। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভবনটির নির্মাণকাজে রাজউক অনুমোদিত নকশা চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং শ্রমিক ও পথচারীদের জন্য ন্যূনতম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেই।

গুরুতর অনিয়ম: নকশা বিচ্যুতি ও সেটব্যাক লঙ্ঘন:

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ভবনটির চারদিকে অতি মাত্রায় নকশা বিচ্যুতি (ডেভিয়েশন) ঘটিয়ে অনুমোদনবিহীন সম্প্রসারণ করা হয়েছে। স্থানীয় ও সরেজমিন সূত্রে জানা যায়, ভবনটিতে সেটব্যাক আইন মানা হয়নি। প্রতিটি ফ্লোরে নকশার বাইরে অতিরিক্ত বারান্দা ও ছাদ সংযুক্ত করা হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই ধরনের অনিয়ম ভবনের ওপর অতিরিক্ত লোড সৃষ্টি করে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করতে পারে, যা ঢাকার মতো ভূমিকম্পপ্রবণ শহরের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ।

শ্রমিক ও পথচারীরা ঝুঁকিতে: নেই নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও তথ্যফলক:

নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত সেফটি নেট, সেফটি গার্ড বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম—এর কোনো কিছুই নেই। ভবনের সামনে প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত কোনো সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়নি। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) অনুসারে এটি সুস্পষ্ট আইন লঙ্ঘন। নিরাপত্তাহীন নির্মাণকাজের কারণে একদিকে যেমন শ্রমিকদের জীবনঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি পথচারীরাও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আছেন।

নগরবিদদের কঠোর সতর্কবার্তা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ:

নগর পরিকল্পনাবিদরা এই ধরনের নির্মাণকাজে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, দুর্বল তদারকি এবং নকশা লঙ্ঘনের প্রবণতা ভবিষ্যতে ভয়াবহ ট্র্যাজেডির কারণ হতে পারে। একজন নগরবিদ মন্তব্য করেন, “দুর্বল তদারকি ও দুর্নীতি নগর পরিকল্পনাকে বিপর্যস্ত করছে; যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে কাজ বন্ধ করা, স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, “এটি শুধু একটি ভবনের অনিয়ম নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বড় উদাহরণ।”

রাজউকের প্রতিক্রিয়া:

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের অথরাইজড অফিসার আশিক আহমেদ এবং ইমারত পরিদর্শক আখতারুজ্জামান ফয়েজ জানান, তারা অভিযোগটি খতিয়ে দেখবেন এবং সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে রিপোর্ট প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত ভবন মালিকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে স্থাপনা নির্মাণে যথাযথ আইন প্রয়োগ ও তদারকি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়বে। এই নকশা লঙ্ঘন ও নিরাপত্তাহীন নির্মাণ কাজ নগর ব্যবস্থাপনার ওপর বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।