১০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

বিআইডব্লিউটিএ প্রকল্পে দুর্নীতি: ৪৫১৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম, অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট: ০৪:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৪০

বিশেষ প্রতিবেদক:

অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর বহুল আলোচিত ড্রেজার ও জলযান সংগ্রহ এবং অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রকল্পের বিবরণ

২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ৩৫টি ড্রেজার, ১৬১টি জলযান, ৩টি ড্রেজার বেইজ এবং নারায়ণগঞ্জে একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের কথা ছিল। প্রকল্পের প্রথমিক বাজেট ছিল ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, যা পরে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫১৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ কয়েকবার বাড়িয়ে শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সাল।

প্রধান অভিযুক্ত: নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন

দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে রাজধানীর রামপুরা মৌলভীরটেকে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাঁচতলা বাড়ি, খিলগাঁও রিয়াজবাগে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং টাঙ্গাইলে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।

চাকরি জীবনের বৈধ আয়ে এই সম্পদের মালিক হওয়া অসম্ভব দাবি করে দুদক তদন্তে নামে। বর্তমানে দুদকের সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াত অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জড়িত অন্য ব্যক্তিরা ও প্রতিষ্ঠান

দুদকের তদন্তে আরও জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের পেছনে রয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর একজন প্রধান প্রকৌশলী ও একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জে এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু জাফর-এর মাধ্যমে অনিয়মে যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ডিএলআই বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ

রামপুরায় ডিএলআই বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি গড়ে তোলেন বিআইডব্লিউটিএ’র প্রায় ২০ জন প্রকৌশলী। অভিযোগ রয়েছে, এই কোম্পানিতে শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে।

সম্পদ যাচাই ও তদন্ত কার্যক্রম

দুদক ইতিমধ্যেই ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, রাজউক, সিটি করপোরেশন, এনবিআর ও ভূমি অফিসে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী মতিন, তার স্ত্রী শাহানা আক্তার জলি ও দুই সন্তানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, বলে জানিয়েছে কমিশন।

মতিনের অবসর ও প্রতিক্রিয়া

অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন চলতি মাসেই অবসরে যাচ্ছেন। তবে সাংবাদিকরা তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনেও কোনো সাড়া মেলেনি।

‍দুদকের হুঁশিয়ারি

দুদক জানিয়েছে, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আদালত-পূর্ব ব্যবস্থা গ্রহণ করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০
বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

বিআইডব্লিউটিএ প্রকল্পে দুর্নীতি: ৪৫১৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম, অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন

আপডেট: ০৪:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

বিশেষ প্রতিবেদক:

অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর বহুল আলোচিত ড্রেজার ও জলযান সংগ্রহ এবং অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রকল্পের বিবরণ

২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ৩৫টি ড্রেজার, ১৬১টি জলযান, ৩টি ড্রেজার বেইজ এবং নারায়ণগঞ্জে একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের কথা ছিল। প্রকল্পের প্রথমিক বাজেট ছিল ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, যা পরে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫১৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ কয়েকবার বাড়িয়ে শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সাল।

প্রধান অভিযুক্ত: নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন

দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে রাজধানীর রামপুরা মৌলভীরটেকে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাঁচতলা বাড়ি, খিলগাঁও রিয়াজবাগে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং টাঙ্গাইলে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।

চাকরি জীবনের বৈধ আয়ে এই সম্পদের মালিক হওয়া অসম্ভব দাবি করে দুদক তদন্তে নামে। বর্তমানে দুদকের সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াত অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জড়িত অন্য ব্যক্তিরা ও প্রতিষ্ঠান

দুদকের তদন্তে আরও জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের পেছনে রয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর একজন প্রধান প্রকৌশলী ও একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জে এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু জাফর-এর মাধ্যমে অনিয়মে যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ডিএলআই বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ

রামপুরায় ডিএলআই বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি গড়ে তোলেন বিআইডব্লিউটিএ’র প্রায় ২০ জন প্রকৌশলী। অভিযোগ রয়েছে, এই কোম্পানিতে শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে।

সম্পদ যাচাই ও তদন্ত কার্যক্রম

দুদক ইতিমধ্যেই ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, রাজউক, সিটি করপোরেশন, এনবিআর ও ভূমি অফিসে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী মতিন, তার স্ত্রী শাহানা আক্তার জলি ও দুই সন্তানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, বলে জানিয়েছে কমিশন।

মতিনের অবসর ও প্রতিক্রিয়া

অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন চলতি মাসেই অবসরে যাচ্ছেন। তবে সাংবাদিকরা তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনেও কোনো সাড়া মেলেনি।

‍দুদকের হুঁশিয়ারি

দুদক জানিয়েছে, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আদালত-পূর্ব ব্যবস্থা গ্রহণ করার সম্ভাবনাও রয়েছে।