ভোট সামনে রেখে উপদেষ্টাদের নিরাপদ প্রস্থানের গুঞ্জন
নির্বাচন ঘিরে ‘সেফ এক্সিট’ বিতর্কে উত্তপ্ত রাজনীতি
- আপডেট: ০৯:৫৩:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৮৮
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মাঠ এখন টালমাটাল। ভোটের আর মাত্র চার মাস বাকি, প্রধান উপদেষ্টা বারবার আশ্বাস দিচ্ছেন ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন হবে। এর মধ্যেই সরকারের ভেতর থেকে ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থান প্রসঙ্গ উঠে আসায় তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও আস্থার সংকটের জন্ম দিয়েছে।
সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কিছু উপদেষ্টা ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, কেউ কেউ নিজেদের জন্য ‘সেফ এক্সিট’ খুঁজছেন।
নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া। টক শো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলে দলে আলোচনার ঝড় বইতে থাকে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারের ভেতরের সাবেক একজন উপদেষ্টার মুখে এমন মন্তব্য আসা ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
নাহিদ ইসলাম সাক্ষাৎকারে বলেন,
“উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছেন। তারা নিজেদের সেইফ এক্সিটের কথা ভাবছেন। তারা যদি এটা বিশ্বাস করতেন যে তাদের নিয়োগকর্তা ছিল গণঅভ্যুত্থানের শক্তি, রাজপথে নেমে জীবন দেওয়া সাধারণ মানুষ, তাহলে উপদেষ্টাদের এই বিচ্যুতি হতো না।”
এরপর এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আরও তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন,
“কিছু উপদেষ্টা শুধু দায়সারা দায়িত্ব পালন করছেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এক্সিট নিতে চাচ্ছেন। এ দায়সারা দায়িত্বের জন্য অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকার টিকে থাকতে পারে না। যারা এইভাবে ভাবছেন, তাদের জন্য মৃত্যু ছাড়া কোনো সেফ এক্সিট নেই।”
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের ভূমিকা ও আর্থিক অনিয়মে তারা হতাশ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সেইফ এক্সিট প্রসঙ্গ এসেছে বলে দলটি ব্যাখ্যা দিয়েছে।
অন্যদিকে সরকারপন্থী কিছু রাজনৈতিক দল জানিয়েছে, সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার আচরণে তারাও বিরক্ত। তাদের মতে, কেউ কেউ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছেন বা নির্বাচনের প্রক্রিয়া বানচাল করতে চাচ্ছেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারীর মতে,
“ইউনূস সরকারের নানা ভুলের কারণেই জনগণ গণঅভ্যুত্থানের ফল ভোগ করতে পারেনি। উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিট প্রসঙ্গ তারই প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন,
“প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস সাহেব জনপ্রিয় হলেও তিনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের বাদ দিয়ে এনজিও ব্যক্তিত্ব ও বিদেশি সংস্থার লোকদের নিয়েছেন, যা সরকারের জন্য বড় ভুল।”
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন,
“গণঅভ্যুত্থানের পর এই সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। উপদেষ্টারা সংস্কার, বিচার ও কল্যাণমূলক কাজে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর পুরো প্রশাসন স্থবির হয়ে পড়ে।”
এ প্রসঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন,
“সেফ এক্সিট প্রসঙ্গ এসেছে উপদেষ্টাদের অসংলগ্ন বক্তব্য থেকে। সরকার যদি নিরপেক্ষতা হারায়, তাহলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে “সেফ এক্সিট” এখন কেবল একটি শব্দ নয়, বরং সরকারের অভ্যন্তরীণ আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
তথ্যসূত্র: গণমাধ্যম বিশ্লেষণ


























