কলাপাড়ায় রাতের আঁধারে সুইজগেট খুলে খালে লবণ পানি, ৪ শতাধিক কৃষক পরিবার পথে বসার শঙ্কা,,
- আপডেট: ১১:৪৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
- / ২৫
কলাপাড়ায় রাতের আঁধারে সুইজগেট খুলে খালে লবণ পানি, ৪ শতাধিক কৃষক পরিবার পথে বসার শঙ্কা
শতাধিক হাঁসের মৃত্যু, ফসল ও পানীয় জলে চরম সংকট
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: কলাপাড়া উপজেলার তিনটি গ্রামের চার শতাধিক কৃষক পরিবার চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের ব্যবহৃত জবান খাঁর খালে লবণ পানি প্রবেশ করায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ সংকট। খালের পানির ওপর নির্ভর করে কয়েকশ একর জমিতে বোরো ধান, তরমুজ, আলু, সরিষা, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল রাতের আধারে চার ভেন্টের সুইজগেট খুলে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটিতে নদীর লবণ পানি ঢুকিয়ে দেয়। আগে খালের পানি মিষ্টি থাকলেও এখন তা এতটাই নোনা যে, সামান্য ছিটেফোঁটা গাছে লাগলেই গাছ মারা যাচ্ছে। ফলে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রমে গড়া ফসল হুমকির মুখে পড়েছে।
খালসংলগ্ন এলাকায় পানীয় ও ব্যবহার্য পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশুকে খাওয়ানোর মতো পানি নেই। হাঁস পালনও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। লবণ পানি পান করে ইতোমধ্যে শতাধিক হাঁস মারা গেছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। গরু-বাছুরকে বাঁচাতে পুকুর থেকে বালতিতে করে পানি এনে খাওয়াতে হচ্ছে।
মধুখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. মিজান রহমান জানান, হঠাৎ করে খালে লোনা পানি ঢুকে পড়ায় তার ২২টি হাঁস মারা গেছে। গরু-বাছুরও ওই পানি খেতে পারছে না। প্রতিদিন কয়েক দফা পুকুর থেকে পানি এনে পশুকে খাওয়াতে হচ্ছে।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল জানান, লবণ পানি ঠেকাতে সুইজগেটের সামনে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতের বেলা একটি কুচক্রী মহল বাঁধ কেটে দেওয়ায় লবণ পানি খালে ঢুকে পড়ে।
এ বিষয়ে কাউছার হামিদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত লবণ পানি অপসারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে তাদের ফসল ও জীবিকা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।










