০১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা: র‍্যাবের অভিযানে গ্রেফতার ২

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট: ০১:৪০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • /

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা: র‍্যাবের অভিযানে গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মোঃ তারেক সরকার (৪০) ও তার সহযোগী মোঃ পলাশ কবির (৪২)-কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।
র‍্যাব জানায়, নরসিংদী সদর এলাকার বাসিন্দা মোঃ তারেক সরকার গত প্রায় তিন বছর ধরে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন এবং চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
তদন্তে জানা যায়, তারেক সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চাকুরিচ্যুত সদস্য। ২০০৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তিনি তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন এবং সেখানে প্রায় ১৪ বছর কর্মরত ছিলেন। পরে বিভাগীয় মামলার কারণে সেখান থেকেও চাকরিচ্যুত হন।
র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা, প্রশাসনিক কাঠামো ও বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা অর্জন করেন। সেই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেই তিনি প্রতারণার জাল বিস্তার করেন।
প্রতারণার অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে ব্যবহৃত ও তথাকথিত ‘ভিআইপি’ মোবাইল সিম সংগ্রহ করতেন। এসব সিম ব্যবহার করে সরকারি ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি দিয়ে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন। এরপর ওই পরিচয়ে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে চাকরি নিয়োগে প্রভাব বিস্তার ও সুপারিশের নামে প্রতারণা চালাতেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সরকার স্বীকার করেছেন, তিনি গত প্রায় ছয় বছর ধরে এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এবং এভাবে প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।
বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর র‍্যাব বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখ নরসিংদী সদরের সঙ্গীতা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে একটি বাঁধাই করা ছবি পাওয়া গেছে, যেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ছবি ফটোশপের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এসব ছবি ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।
তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সহযোগী হিসেবে মোঃ পলাশ কবিরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পরে র‍্যাবের আরেকটি দল ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪ মে ২০২৬ তারিখ তাকে আলামতসহ গ্রেফতার করে।
এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাভার প্রতিনিধি। ​শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুর ৩ টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম সবুজের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে নজরুল ইসলাম সবুজ বলেন শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। দেশে আইনের শাসনের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে।” বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশন ও বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। বলেন, আজ নারী ও শিশুরা ঘরে কিংবা বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। বক্তারা অনতিবিলম্বে রামিসা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে জনসম্মুখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অন্যথায়, সাধারণ শ্রমিকদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও রাজপথ কাঁপানো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। উক্ত প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন: ইয়াসিন আরাফাত (সভাপতি, সাভার থানা কমিটি) শ্রী রবিন চন্দ্র রায় (সহ-সভাপতি)তনিমা হামিদ সুমি (সাধারণ সম্পাদক)নাজমুল ইসলাম রাকিব (দপ্তর সম্পাদক)মোছাঃ মুন্নী খাতুন (নারী বিষয়ক সম্পাদক)মোছাঃ মনিরা খাতুন (অর্থ বিষয়ক সম্পাদক)এস রহমান (কার্যকরী সদস্য)এ সময় বিভিন্ন পোশাক কারখানার ইউনিয়নভুক্ত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও স্থানীয় সাধারণ জনতা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা: র‍্যাবের অভিযানে গ্রেফতার ২

আপডেট: ০১:৪০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা: র‍্যাবের অভিযানে গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মোঃ তারেক সরকার (৪০) ও তার সহযোগী মোঃ পলাশ কবির (৪২)-কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।
র‍্যাব জানায়, নরসিংদী সদর এলাকার বাসিন্দা মোঃ তারেক সরকার গত প্রায় তিন বছর ধরে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন এবং চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
তদন্তে জানা যায়, তারেক সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চাকুরিচ্যুত সদস্য। ২০০৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তিনি তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন এবং সেখানে প্রায় ১৪ বছর কর্মরত ছিলেন। পরে বিভাগীয় মামলার কারণে সেখান থেকেও চাকরিচ্যুত হন।
র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা, প্রশাসনিক কাঠামো ও বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা অর্জন করেন। সেই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেই তিনি প্রতারণার জাল বিস্তার করেন।
প্রতারণার অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে ব্যবহৃত ও তথাকথিত ‘ভিআইপি’ মোবাইল সিম সংগ্রহ করতেন। এসব সিম ব্যবহার করে সরকারি ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি দিয়ে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন। এরপর ওই পরিচয়ে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে চাকরি নিয়োগে প্রভাব বিস্তার ও সুপারিশের নামে প্রতারণা চালাতেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সরকার স্বীকার করেছেন, তিনি গত প্রায় ছয় বছর ধরে এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এবং এভাবে প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।
বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর র‍্যাব বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখ নরসিংদী সদরের সঙ্গীতা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে একটি বাঁধাই করা ছবি পাওয়া গেছে, যেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ছবি ফটোশপের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এসব ছবি ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।
তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সহযোগী হিসেবে মোঃ পলাশ কবিরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পরে র‍্যাবের আরেকটি দল ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪ মে ২০২৬ তারিখ তাকে আলামতসহ গ্রেফতার করে।
এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে।