আইনি জটিলতা পেরিয়ে সংসদে নুসরাত তাবাসসুম, সংরক্ষিত নারী আসনে শপথ
- আপডেট: ০৯:১৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- / ২
আইনি জটিলতা পেরিয়ে সংসদে নুসরাত তাবাসসুম, সংরক্ষিত নারী আসনে শপথ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। বুধবার (৬ মে) দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮-এর তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
শপথ শেষে নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সচিবের কার্যালয়ে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন নুসরাত তাবাসসুম। এ সময় ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলের চিফ হুইপসহ সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে এই শপথের পেছনে ছিল আইনি জটিলতায় ঘেরা একটি প্রক্রিয়া। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় থাকলেও নুসরাত তাবাসসুম ১৯ মিনিট দেরিতে তা জমা দেন। এ কারণে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণে আপত্তি জানায় এবং তা বাতিল করা হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ালে আদালত নির্বাচন কমিশনকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন পুনরায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে এবং গেজেট প্রকাশ করে। এর পরই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পথ সুগম হয়।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালতের রায়ের আলোকে পুরো প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করে তাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শপথ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আইনি ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। তবে বিষয়টি এখনো রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।”











