অনলাইনে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার, হয়রানি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ: প্রতিকারের দাবি*
- আপডেট: ১১:১৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ০
*অনলাইনে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার, হয়রানি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ: প্রতিকারের দাবি*
চট্টগ্রামে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করে হয়রানি এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ ক্রমশ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি কর্মকর্তাদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ফটোকার্ড তৈরি করছে এবং তা ফেসবুকসহ অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করছে। একই সঙ্গে এসব পোস্টের লিংক বিভিন্ন ব্যক্তি, সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগসমূহের বিবরণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই অপবাদমূলক বক্তব্য প্রচার করা হয় এবং পরবর্তীতে তা মুছে ফেলা বা ভাইরাল হওয়া থেকে বিরত রাখার বিনিময়ে অর্থ দাবি করা হতে পারে। একটি গ্রুপ থেকে অন্য গ্রুপে লিংক শেয়ারের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিষয়গুলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য যদি সত্যিই কোনো ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করা এবং সেই সুযোগে অর্থ আদায় করা হয়, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর ও আইনশৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট বিষয়।
এর ফলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অযাচিত মানসিক চাপ, সামাজিক হয়রানি এবং পেশাগত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ছেন বলে জানা গেছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষ, আইনানুগ প্রক্রিয়া এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে উত্থাপন করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিশেষ করে সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে জনমনে প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। একজন সরকারি কর্মকর্তার নামে কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমের সম্পূর্ণ দায় চাপিয়ে দেওয়াও বাস্তব প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সরকারি ক্রয়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সাধারণত নির্ধারিত বিধি-বিধান, ক্ষমতা অর্পণ, কমিটি এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা এককভাবে এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন—এমন ধারণা সৃষ্টি করা বিভ্রান্তিকর এবং তথ্যগতভাবে ভুল।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও দপ্তরসমূহের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং পেশাগত স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার, সাইবার হয়রানি, মানহানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অর্থ দাবির অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মহামান্য হাইকোর্টের বিভিন্ন রায়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার, মানহানি এবং আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি বিদ্যমান আইন ও বিধানসমূহ যথাযথভাবে প্রয়োগ করে এবং অনলাইন অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি ও তদন্ত নিশ্চিত করে, তাহলে এ ধরনের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি অনুরোধ: কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই না করে শেয়ার বা প্রচার না করা এবং কোনো ধরনের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত।
(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি কর্মকর্তা)
কিছু অসাধু চক্রের সাথে সরকারি কিছু কর্মকর্তারও জড়িত রয়েছে, তাদের সহযোগিতায় সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে, ফেসবুকে, মেসেঞ্জার গ্রুপে, ইউটিউবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে তাদের পরিবারের কাছে, আত্মীয়স্বজনের কাছে, বন্ধুবান্ধবের কাছে মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করছে, যার কারণে এসব কর্মকর্তারা হয়রানির পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। এমনকি সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য বিভিন্নভাবে প্রচার চালাচ্ছে। এতে করে এই সৎ কর্মকর্তাদের মিথ্যা বেড়াজালে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তাই আমরা চাই, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে এসব অসাধু চক্রকে বিচারের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।












