ঘুষ সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা?—ইঞ্জিনিয়ার মামুন কাণ্ডে নতুন মোড়,,,
- আপডেট: ০৮:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৫৭
ঘুষ সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা?—ইঞ্জিনিয়ার মামুন কাণ্ডে নতুন মোড়
দ্বিতীয় পর্ব: প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষক, অর্থের রুট ও তদন্তের অগ্রগতি
স্টাফ রিপোর্টার: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের পর এবার বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। প্রথম প্রতিবেদনে উন্মোচিত “৫ শতাংশ কমিশন সিন্ডিকেট”–এর পেছনে আরও বড় নেটওয়ার্ক কাজ করছে বলে ধারণা করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। সূত্র জানায়, মামুন একা নন—তার পেছনে রয়েছেন অধিদপ্তরের ভেতরের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা এবং একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাদের ছায়া-আশ্রয়েই এই দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল।
—
প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ‘কমিশন বাণিজ্য’
অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে, প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডার বাছাই ও বিল পরিশোধ—সব কিছুতেই ছিল “অনানুষ্ঠানিক ফি” বা ঘুষের প্রথা। মামুন এই প্রক্রিয়ার “কেন্দ্রীয় সংযোগ” হিসেবে কাজ করতেন। তার ঘনিষ্ঠ একজন সহযোগী গোপনে জানিয়েছে,
> “মামুন ভাই শুধু টাকা নিতেন না, ভাগ হতো ওপরের দিকেও। তিনি সরাসরি কিছু না করলেও, সিস্টেমটা এমনভাবে তৈরি করেছেন যেন সবাই বাধ্য হয় সেই নিয়মে চলতে।”
কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রকল্পের বাজেট অনুযায়ী ঘুষের হার নির্ধারিত থাকত। ছোট প্রকল্পে ২ থেকে ৩ শতাংশ, আর বড় প্রকল্পে ৫ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হতো। টাকা না দিলে টেন্ডার বাতিল বা বিল আটকে যেত।
—
অর্থপাচারের সন্দেহ
দুদকের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, মামুনের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু ঢাকাতেই নয়, তার গ্রামের বাড়িতেও সম্প্রতি নতুন একটি ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে, যা সরকারি চাকরির বেতনে “অসম্ভব” বলেই মনে করছে তদন্ত দল।
এক সূত্র জানায়, মামুন তার স্ত্রীর নামে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন, যা “প্রকল্প-সংক্রান্ত ঠিকাদারদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থে” পরিচালিত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
—
অধিদপ্তরের ভেতরে আতঙ্ক ও চাপ
অভিযোগ প্রকাশের পর থেকেই যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভেতরে চলছে নীরব আতঙ্ক। অনেক কর্মকর্তা নিজের ফাইল ও প্রকল্প-সম্পর্কিত নথি সরিয়ে ফেলছেন বলে জানা গেছে। একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন,
> “যাদের নাম জড়িয়েছে, সবাই এখন ‘কাগজপত্র সাফ’ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এত কিছুর পরও মন্ত্রণালয় চুপ করে থাকবে না।”
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহল থেকেও নানান ফোন ও সুপারিশ আসছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
—
তদন্তে নেমেছে দুদক ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ দল
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামুনসহ ৭ জন কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব তলবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুদকের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন,
> “আমরা চাই না বিষয়টি ‘ব্যক্তি নির্ভর’ হয়ে পড়ুক। এটা একটি সিস্টেমিক দুর্নীতি, যার শিকড় অনেক গভীরে।”
—
নীরবতা ভাঙবেন কি ইঞ্জিনিয়ার মামুন?
এখনও পর্যন্ত মামুন গণমাধ্যম বা প্রশাসনের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তাঁর অফিস কক্ষ বন্ধ, ফোন বন্ধ, এবং তিনি কোথায় আছেন তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না। একাধিক সূত্র বলছে, তিনি হয়তো ছুটিতে আছেন বা নিজ উদ্যোগে “আত্মগোপন” করেছেন।
—
আগামী পর্বে:
তৃতীয় প্রতিবেদনে থাকছে—
“ঠিকাদারদের স্বীকারোক্তি: কে কত দিয়েছে, কাকে দিয়েছে, আর কত টাকা হাতবদল হয়েছে?”
দেখা যাবে, কীভাবে একটি সরকারি দপ্তরের ভেতরে ঘুষ বাণিজ্য ‘নিয়মে’ পরিণত হয়েছিল।











