ঈদযাত্রায় চন্দ্রা অচল: ১২ কিমি যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগে যাত্রী
- আপডেট: ০৪:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
- / ১০
ঈদযাত্রায় চন্দ্রা অচল: ১২ কিমি যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগে যাত্রী
📰আল আমিন
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঢলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে চন্দ্রা এলাকা। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যার পর হঠাৎ যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েন বাড়ি ফেরা মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দ্রা বাস টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সফিপুর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এবং কবিরপুর এলাকা থেকে আরও প্রায় ৫ কিলোমিটারজুড়ে গাড়ির দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন থেমে থেমে চলায় যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। অনেকেরই চন্দ্রা পৌঁছাতে সময় লেগেছে এক থেকে দুই ঘণ্টা, আবার টার্মিনালে এসে যাত্রী তোলার জন্য বাসগুলো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকছে।
এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে শিল্পাঞ্চল গাজীপুর-এর পোশাক কারখানাগুলোর ছুটি। ছুটি ঘোষণার পর বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একসঙ্গে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ায় সড়কে হঠাৎ চাপ বেড়ে যায়, ফলে চন্দ্রা এলাকায় কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
ঢাকা থেকে বগুড়াগামী যাত্রী রুবেল হোসেন বলেন, “চন্দ্রা পর্যন্ত আসতেই প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। রাস্তায় গাড়ি চলছে খুব ধীরে, আবার টার্মিনালে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
পোশাককর্মী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “সারাদিন কাজ শেষে বাস ধরতে এসে দেখি প্রচণ্ড ভিড়। কোনো শৃঙ্খলা নেই, কখন গাড়ি ছাড়বে সেটাও নিশ্চিত না।”
আরেক যাত্রী আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, “ঈদের সময় চন্দ্রা এলাকায় এলেই ভোগান্তি বাড়ে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।”
যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করলেও সন্ধ্যার পর হঠাৎ চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চন্দ্রা ত্রিমোড় দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হওয়ায় ঈদের সময় এখানে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
প্রতি ঈদেই এই এলাকায় যানজটের পুনরাবৃত্তি নতুন নয়। চার দিক থেকে—নবীনগর, আশুলিয়া, চান্দনা চৌরাস্তা ও টাঙ্গাইলমুখী সড়ক—একসঙ্গে যানবাহন এসে মিশে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। ফ্লাইওভার থাকলেও তা পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া এবং নিচে যাত্রী ও যানবাহনের জটলা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সামান্য সময়ের জন্য যানবাহন থেমে গেলেই কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে একই দিন রাতে উত্তরবঙ্গগামী যমুনা সেতু-এর পশ্চিম পাড়সহ সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে চন্দ্রা এলাকায় চাপ অব্যাহত থাকায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, শিল্পকারখানার ছুটি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনসহ নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।





















