হাইওয়ে পুলিশের মাসোহারায় থামছে না ফিটনেসবিহীন যানবাহন
- আপডেট: ১২:৫২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৯৫
হাইওয়ে পুলিশের মাসোহারায় থামছে না ফিটনেসবিহীন যানবাহন
মো: ফরিদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ :
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশের মাসোহারায় অবাধে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলের অভিযোগ উঠছে। এতে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে কিছু যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দিলেও বেশিরভাগ অংশই মাসোহারায় বিনিময়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, ঢাকার গাবতলীতে পদ্মা পরিবহন, সেলফি পরিবহন ও সাইনবোর্ডে নীলাচল পরিবহনের বাস চলাচল করে। আর বেশিরভাগ বাসের ফিটনেসসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় যোগাযোগ পরিবহন নবীনগর পর্যন্ত চলাচল করে। এছাড়াও যাত্রীসেবা, সেবা লিংকসহ স্থানীয় গার্মেন্টসে শ্রমিক পরিবহনে ব্যবহৃত বাসগুলো এই মহাসড়তে সাধারণ যাত্রী বহন করে। ঢাকাগামী বাসের কাগজপত্র হালনাগাদ থাকলেও রয়েছে নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি আসন, হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার ও চালকের লাইন্সেস না থাকাসহ নানা ক্রুটি। লোকালে চলাচলকারী বাসের নেই হালনাগাদ কোন কাগজপত্র। ইট ভাটায় ও বালুর গদির বেডফোর্ড ট্রাকের নেই কোন কাগজপত্র। সেগুলোও বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশের মানোহারার বিনিময়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। পিকআপ, টেম্পু, ট্রলি ও মহাসড়কে নিষিদ্ধ ত্রি-হুইলারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দু একটির মামলা দিলেও সিংহ ভাগই থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে।
কয়েকজন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ সকল অবৈধ যানবাহন থেকে মাসিক ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা হাইওয়ে পুলিশের অজ্ঞাতনামা সোর্স লিস্ট মোতাবেক ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে আদায় করে। কেউ মাসোহারা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে দেয়া হয় মামলা। হাইওয়ে পুলিশের এসব অনৈতিক কাজের কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না, মামলাসহ নানা হয়রানির শঙ্কায়।
পাটুরিয়া ফেরিসংযোগ মোড়ে সেলফি, পদ্মা ও নীলচলের কমপক্ষে ৮/১০টি বাস মহাসড়কে দাড়িয়ে যাত্রী তুলে। এতে প্রায়ই যানজটসহ দুর্ঘটনার শঙ্কা বেড়ে যায়। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশের কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নজির নেই।
অন্য জেলার ভূক্তভোগি ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা জানান, পদ্মা-যমুনার ওপারের জেলাগুলো থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক থামিয়ে বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে সুকৌশলে মাসোহারা করার ফাঁদে ফেলে। রাজি না হলেই মামলাসহ নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।
বরংগাইল হাইওয়ে থানার ওসি হারুণ অর রশিদ বলেন,‘মাসোহারার বিষয়টি আমি অবগতি নই। আমি ৮/১০ দিন ধরে এখানে এসেছি।’











