নগর উন্নয়ন সংস্থায় অনিয়মের ছায়া: এক পরিদর্শককে ঘিরে বিস্তর প্রশ্ন,,
- আপডেট: ১০:১৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২
নগর উন্নয়ন সংস্থায় অনিয়মের ছায়া: এক পরিদর্শককে ঘিরে বিস্তর প্রশ্ন
রাজধানীর উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বে থাকা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–এর এক ইমারত পরিদর্শককে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হলেন আবুল কালাম আজাদ, যিনি ২০১৮ সালে সংস্থাটিতে যোগ দেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও সে সময় প্রশ্ন উঠেছিল—লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাকে ঘিরে নানা গুঞ্জন থাকলেও তা নিয়ে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত হয়নি।
নিয়োগ থেকে নেটওয়ার্ক
সংস্থায় যোগদানের পর থেকেই তিনি প্রভাববলয় তৈরি করেন বলে অভিযোগ। বদলি হয়ে বিভিন্ন জোনে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক নির্মাণ প্রকল্প, অনুমোদনবিহীন ভবন ও নকশা বহির্ভূত কাজকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের দাবি—নির্মাণ বন্ধ, জরিমানা বা উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় ছিল একটি নিয়মিত কৌশল।
২০২৩ সালে এক লিখিত অভিযোগে কয়েকটি নির্দিষ্ট ভবন থেকে বিপুল অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও নকশাবিহীন ভবন, কোথাও অতিরিক্ত তলা, আবার কোথাও ছাদ একীভূত করার মতো অনিয়মকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এমনকি একটি বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতে রিট করার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যাতে সংস্থার উচ্ছেদ অভিযান আটকে যায়।
মোবাইল কোর্টের পর ‘চাপের রাজনীতি’
২০২৫ সালের এপ্রিলে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। অভিযানে কয়েকটি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—তিনি নকশা বিচ্যুতি দেখিয়ে ভবন মালিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং ‘ম্যানেজ’ করার শর্তে অর্থ দাবি করেন। একাধিক ভবনের মালিক দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে নগদ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে; কোথাও রেস্টুরেন্টে বৈঠক করে, কোথাও কিস্তিতে। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজে লেনদেনের প্রমাণ থাকার কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে।
এসব বিষয়ে সরকারের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বদলি, প্রত্যাবর্তন ও প্রভাবের প্রশ্ন
অতীতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে এক জোন থেকে অন্য জোনে বদলি করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফেরার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলে গুঞ্জন—উচ্চপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে বারবার রক্ষা করেছে।
বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে অনুমোদনহীন ভবন, অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি সমবায় প্রতিষ্ঠান ও বহুতল ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান ব্যবস্থা খুব কমই দেখা গেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার ভেতরেই কি কোনো অদৃশ্য সমঝোতা কাজ করছে?
আবাসিক থেকে বাণিজ্যিক রূপান্তর
সাম্প্রতিক সময়ে আবাসিক অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো কয়েকটি ভবন নিয়েও নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। বিষয়টি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। একইসঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তারাও নীরব অবস্থান নিয়েছেন।
নথি হারানোর রহস্য
প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের এক সদস্য এবং এস্টেট শাখার এক পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগসংক্রান্ত নথি ‘হারিয়ে যাওয়ার’ ঘটনাও বিস্ময় তৈরি করেছে। পরে পুনরায় কপি জমা দিতে হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানান। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তা কেবল ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয়, বরং একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বড় আঘাত। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি—স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটন সম্ভব নয়। এখন দেখার বিষয়, নগর উন্নয়ন ও জননিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ কতটা দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
এ বিষয়ে ইরামত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ এর সাথে প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে শক্ত মুখে জানান এমন নিউজ হইতেই থাকবে হোক তাতে কিছু হয়। রাউজকের কর্মকর্তা হয়ে সাংবাদিককে কঠুর ভাষায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বলা কতটা যুক্তিশীল বলে প্রশ্ন গনমাধ্যম কর্মীদের।









