জাতীয় নির্বাচনের দিনই হবে গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস,,,
- আপডেট: ০৫:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৪৯
জাতীয় নির্বাচনের দিনই হবে গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই দেশের জনগণ সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোটের মাধ্যমে মতামত জানানোর সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হলে সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, “গত নয় মাস ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এটি ভবিষ্যতের গণতন্ত্র ও রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক একটি দৃষ্টান্ত।”
তিনি জানান, জুলাই মাসে গঠিত জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া অনুযায়ী চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন,
দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন,
সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি,
বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতির নির্বাচন,
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ,
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি,
মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ আরও নানা সংস্কার।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “গণভোটে নাগরিকরা একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানাবেন। জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ মত ‘হ্যাঁ’ হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবেন। এরপর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।”
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যেই বিচার ও প্রশাসনিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন, আর্থিক স্বচ্ছতা, ডিজিটালাইজেশন সম্প্রসারণ এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এসব বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সাধারণ আদালতে চলছে।
ভাষণের শেষে প্রফেসর ইউনূস বলেন, “আমরা চাই আগামী নির্বাচন হোক উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু। জনগণ যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারে, সে জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন ও সংবিধান সংস্কারের পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হবে।”














