০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে সরকার পরিবর্তনের পরও পুরোনো দাপট! ফিমা আউটসোর্সিং, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৮

 

বিশেষ প্রতিবেদন :

সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আসবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই অভিযোগ উঠছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে ঘিরে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরও যুব উন্নয়নের আউটসোর্সিং কার্যক্রমে বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলই বারবার কাজ পাচ্ছে, যা জনমনে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ফিমা আউটসোর্সিং ও রাজনৈতিক সংযোগ। সাবেক সচিব মেজবাহ উদ্দিন জেলে অথচ সে দিব্বি অফিস করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে। সরকারের উচিত দ্রুত তাকে চাকরিচ্যুত করে জেলে পাঠানো। এতে রাষ্ট্রের সম্পদ কিছুটা হলেও সেইভ হবে। চোর শাস্তি পাবে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফিমা আউটসোর্সিং কোম্পানি একসময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকার পরিবর্তনের পরও এই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা কীভাবে ধারাবাহিকভাবে কাজ পাচ্ছেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে বিস্ময় ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
“E-GP টেন্ডার, আমার কিছু করার নেই”—ডিজির বক্তব্য….
এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান,
“যার যোগ্যতা আছে, সে-ই কাজ পাবে। E-GP টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আমার কিছু করার নেই।” কিছু অসাধু ও অসৎ সাংবাদিক আমার নামে ওলটা পালটা কথা লিখে! এতে আমার কিচ্ছু আসে যায় না। আমি সুপার পাওয়ার এর লোক,এতে আমার কোন সমস্যা নাই। সাংবাদিক প্র স্ন করে বলেন – আপনি তো নিজেই অসৎ লোক তাই অন্য জনকেও আপনার অসৎ বলে মনে হয়। চুরি করেন সরকারের ও রাষ্ট্রের সম্পদ আর বড় বড় কথা বলেন। এ যেন চোরের মায়ের বড় গলা!
কিন্তু বাস্তবে বারবার একই গোষ্ঠীর কাজ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যোগ্যতা থাকলে সুযোগ কেন সীমিত গোষ্ঠীতেই আবদ্ধ—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
একাধিক প্রকল্প, একাধিক পদ—স্বার্থের সংঘাত?
অভিযোগ রয়েছে, যুব উন্নয়নের মহাপরিচালক ড. গাজী সাইফুজ্জামান নিজেই একাধিক প্রকল্পের পরিচালক (PD) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি আরও কয়েকজন কর্মকর্তা একসঙ্গে দুটি প্রকল্পের PD এবং দুটি প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন কর্মকর্তা কীভাবে একই সময়ে একাধিক প্রকল্প ও প্রশাসনিক পদে থাকতে পারেন? এতে কি স্বার্থের সংঘাত ও নজরদারির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে না—এই প্রশ্ন উঠছে।
“যুবকদের ভাগ্য বদলের” প্রকল্প—বাস্তবতা কোথায়?
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। যুবকদের ভাগ্য পরিবর্তনের নামে নেওয়া কয়েকটি প্রকল্পের মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই বললেই চলে—এমন অভিযোগ রয়েছে। বরং প্রকল্পের অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যেই।
OSD থেকে পুনর্বহাল—টাকার বিনিময়ে?কিছুদিন আগে মহাপরিচালককে OSD করা হলেও মাত্র দুই দিনের মাথায় পুনরায় পূর্ণ দায়িত্বে বহাল করা হয়। মিডিয়া ও প্রশাসনিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে—সাবেক এক উপদেষ্টার এপিএস মোয়াজ্জেমের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে এই পুনর্বহাল সম্ভব হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৫ শতাংশ কমিশনের অভিযোগ ও সই আটকে রাখার কথা
অনুসন্ধানে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে—প্রতিটি প্রকল্প থেকে মহাপরিচালক ৫ শতাংশ অর্থ দাবি করেন; টাকা না দিলে ফাইলে সই করা হয় না—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক সূত্র। এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার দাবি :
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বাংলাদেশ সরকারের উচিত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া। অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া না হলে তারা বিদেশে পালিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগ রয়েছে, বড় বড় দুর্নীতিবাজরা অতীতেও এই সুযোগ নিয়েছে। তারা বিদেশে চলে গিয়ে সেখানে বাড়ি, পরিবার ও আরামদায়ক জীবন গড়ে তুলেছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তখন আর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দুদকে অভিযোগ ও সম্পত্তি জব্দের দাবি :ড. গাজী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে দুদকে মামলা দায়ের, আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার এবং তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবি উঠেছে।
মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো—মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ। যদিও এটি এখনও অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে, তবে বিষয়টি অবিলম্বে তদন্তের আওতায় আনার দাবি তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।
জনমনের প্রশ্ন :
আজ জনমনে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
সরকার বদলালেও যুব উন্নয়নে পুরোনো রাজনৈতিক প্রভাব কেন অটুট?
“তেল মাথায় তেল” দেওয়ার এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে বাকি মানুষ কি বেকার হয়ে রাস্তায় নামবে?
এভাবে আর কতদিন চলবে?
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নৈতিকতা নিশ্চিত না হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো প্রজন্ম।
এখনই সময় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং অভিযোগগুলোর প্রকাশ্য ও স্পষ্ট জবাব নিশ্চিত করার।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাভার প্রতিনিধি। ​শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুর ৩ টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম সবুজের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে নজরুল ইসলাম সবুজ বলেন শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। দেশে আইনের শাসনের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে।” বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশন ও বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। বলেন, আজ নারী ও শিশুরা ঘরে কিংবা বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। বক্তারা অনতিবিলম্বে রামিসা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে জনসম্মুখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অন্যথায়, সাধারণ শ্রমিকদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও রাজপথ কাঁপানো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। উক্ত প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন: ইয়াসিন আরাফাত (সভাপতি, সাভার থানা কমিটি) শ্রী রবিন চন্দ্র রায় (সহ-সভাপতি)তনিমা হামিদ সুমি (সাধারণ সম্পাদক)নাজমুল ইসলাম রাকিব (দপ্তর সম্পাদক)মোছাঃ মুন্নী খাতুন (নারী বিষয়ক সম্পাদক)মোছাঃ মনিরা খাতুন (অর্থ বিষয়ক সম্পাদক)এস রহমান (কার্যকরী সদস্য)এ সময় বিভিন্ন পোশাক কারখানার ইউনিয়নভুক্ত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও স্থানীয় সাধারণ জনতা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে সরকার পরিবর্তনের পরও পুরোনো দাপট! ফিমা আউটসোর্সিং, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা

আপডেট: ০৫:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

বিশেষ প্রতিবেদন :

সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আসবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই অভিযোগ উঠছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে ঘিরে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরও যুব উন্নয়নের আউটসোর্সিং কার্যক্রমে বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলই বারবার কাজ পাচ্ছে, যা জনমনে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ফিমা আউটসোর্সিং ও রাজনৈতিক সংযোগ। সাবেক সচিব মেজবাহ উদ্দিন জেলে অথচ সে দিব্বি অফিস করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে। সরকারের উচিত দ্রুত তাকে চাকরিচ্যুত করে জেলে পাঠানো। এতে রাষ্ট্রের সম্পদ কিছুটা হলেও সেইভ হবে। চোর শাস্তি পাবে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফিমা আউটসোর্সিং কোম্পানি একসময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকার পরিবর্তনের পরও এই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা কীভাবে ধারাবাহিকভাবে কাজ পাচ্ছেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে বিস্ময় ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
“E-GP টেন্ডার, আমার কিছু করার নেই”—ডিজির বক্তব্য….
এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান,
“যার যোগ্যতা আছে, সে-ই কাজ পাবে। E-GP টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আমার কিছু করার নেই।” কিছু অসাধু ও অসৎ সাংবাদিক আমার নামে ওলটা পালটা কথা লিখে! এতে আমার কিচ্ছু আসে যায় না। আমি সুপার পাওয়ার এর লোক,এতে আমার কোন সমস্যা নাই। সাংবাদিক প্র স্ন করে বলেন – আপনি তো নিজেই অসৎ লোক তাই অন্য জনকেও আপনার অসৎ বলে মনে হয়। চুরি করেন সরকারের ও রাষ্ট্রের সম্পদ আর বড় বড় কথা বলেন। এ যেন চোরের মায়ের বড় গলা!
কিন্তু বাস্তবে বারবার একই গোষ্ঠীর কাজ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যোগ্যতা থাকলে সুযোগ কেন সীমিত গোষ্ঠীতেই আবদ্ধ—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
একাধিক প্রকল্প, একাধিক পদ—স্বার্থের সংঘাত?
অভিযোগ রয়েছে, যুব উন্নয়নের মহাপরিচালক ড. গাজী সাইফুজ্জামান নিজেই একাধিক প্রকল্পের পরিচালক (PD) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি আরও কয়েকজন কর্মকর্তা একসঙ্গে দুটি প্রকল্পের PD এবং দুটি প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন কর্মকর্তা কীভাবে একই সময়ে একাধিক প্রকল্প ও প্রশাসনিক পদে থাকতে পারেন? এতে কি স্বার্থের সংঘাত ও নজরদারির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে না—এই প্রশ্ন উঠছে।
“যুবকদের ভাগ্য বদলের” প্রকল্প—বাস্তবতা কোথায়?
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। যুবকদের ভাগ্য পরিবর্তনের নামে নেওয়া কয়েকটি প্রকল্পের মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই বললেই চলে—এমন অভিযোগ রয়েছে। বরং প্রকল্পের অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যেই।
OSD থেকে পুনর্বহাল—টাকার বিনিময়ে?কিছুদিন আগে মহাপরিচালককে OSD করা হলেও মাত্র দুই দিনের মাথায় পুনরায় পূর্ণ দায়িত্বে বহাল করা হয়। মিডিয়া ও প্রশাসনিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে—সাবেক এক উপদেষ্টার এপিএস মোয়াজ্জেমের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে এই পুনর্বহাল সম্ভব হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৫ শতাংশ কমিশনের অভিযোগ ও সই আটকে রাখার কথা
অনুসন্ধানে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে—প্রতিটি প্রকল্প থেকে মহাপরিচালক ৫ শতাংশ অর্থ দাবি করেন; টাকা না দিলে ফাইলে সই করা হয় না—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক সূত্র। এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার দাবি :
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বাংলাদেশ সরকারের উচিত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া। অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া না হলে তারা বিদেশে পালিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগ রয়েছে, বড় বড় দুর্নীতিবাজরা অতীতেও এই সুযোগ নিয়েছে। তারা বিদেশে চলে গিয়ে সেখানে বাড়ি, পরিবার ও আরামদায়ক জীবন গড়ে তুলেছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তখন আর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দুদকে অভিযোগ ও সম্পত্তি জব্দের দাবি :ড. গাজী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে দুদকে মামলা দায়ের, আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার এবং তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবি উঠেছে।
মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো—মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ। যদিও এটি এখনও অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে, তবে বিষয়টি অবিলম্বে তদন্তের আওতায় আনার দাবি তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।
জনমনের প্রশ্ন :
আজ জনমনে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
সরকার বদলালেও যুব উন্নয়নে পুরোনো রাজনৈতিক প্রভাব কেন অটুট?
“তেল মাথায় তেল” দেওয়ার এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে বাকি মানুষ কি বেকার হয়ে রাস্তায় নামবে?
এভাবে আর কতদিন চলবে?
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নৈতিকতা নিশ্চিত না হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো প্রজন্ম।
এখনই সময় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং অভিযোগগুলোর প্রকাশ্য ও স্পষ্ট জবাব নিশ্চিত করার।