নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ—আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান দুলাল আবার আলোচনায়
- আপডেট: ০৩:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ৬০
নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ—আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান দুলাল আবার আলোচনায়
স্টাফ রিপোর্টার, দাউদকান্দি (কুমিল্লা)
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর পশ্চিম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান দুলালের বিরুদ্ধে নতুন করে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন—দল নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরও তিনি গোপনে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অভিযোগ—দুলাল চেয়ারম্যান গোপনে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করছেন এবং ইউনিয়ন এলাকায় নিজস্ব রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাদের অভিযোগ, তিনি সরকারবিরোধী সম্ভাব্য যেকোনো আন্দোলনে নিষিদ্ধ সংগঠনকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পূর্ববর্তী সরকারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় তিনি দীর্ঘদিন প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছিলেন এবং কাউকে তেমন গুরুত্ব দিতেন না। তাদের দাবি—ক্ষমতা হারালেও তিনি এখনো নানা উপায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
অবৈধ সম্পদ ও অনিয়মের অভিযোগও উঠে এসেছে
এলাকাবাসীর কিছু অংশ দাবি করেন—ঢাকার মিরপুরে দুলাল চেয়ারম্যানের একাধিক বাড়ি, প্লট ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা ও সুযোগকে ব্যবহার করে তিনি বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন।
এ ছাড়া, গোপন সূত্রের দাবি—অবৈধ বরিং ড্রেজার দিয়ে জমি কেটে বালু উত্তোলন এবং ইউনিয়নের একটি মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পেছনে তাঁর প্রভাব রয়েছে বলে আলোচনা চলছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
“টাকার জোরেই সব”—বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা
অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে দুলাল চেয়ারম্যান নাকি বলেন—নৌকা প্রতীক পেতে তিনি ‘মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করেছেন’ এবং টাকার জোরেই তিনি এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
অনেকে মন্তব্য করছেন—একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুখে এ ধরনের বক্তব্য পুরো ইউনিয়নের জন্য লজ্জাজনক।
তদন্তের দাবি উঠছে
স্থানীয়দের অভিযোগ—দুলাল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। এখন অভিযোগ প্রকাশ্যে ওঠায় স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়ছে এবং অনেকেই তার সম্পদের উৎস ও কর্মকাণ্ড তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে—অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি।
চেয়ারম্যান দুলালের অবস্থান
চেয়ারম্যান দুলালের বক্তব্য ছাড়া অন্যান্য অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। এসব বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।










