দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত এক সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন?
- আপডেট: ০৮:২১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৮৩
উমরাহ সফরের নেপথ্য সঙ্গী কে?
দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত এক সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন?
বিশেষ প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের মেরিন সেক্টরে বহুল আলোচিত একটি নাম—চীফ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রশিদ মুন্না। কেউ তাকে চেনেন দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে, কেউবা চেনেন চলচ্চিত্রের নায়ক হওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টার কারণে। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিতর্কিত চরিত্রটি আবার আলোচনায় এসেছে এক রাজনৈতিক সফরসঙ্গীর পরিচয়ে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা সার্জিস আলম–এর সাম্প্রতিক উমরাহ সফর ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এই সফরের অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষক কে ছিলেন, এবং কেন?
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা সার্জিস আলম। তিনি জাতীয় পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী নেতা—এমন দাবি ভবিষ্যতের ভোটেই নির্ধারিত হবে। তবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা দেশবাসীর অজানা নয়—এ কথাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
উমরাহ সফর: ইবাদত না বিতর্ক?
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা সার্জিস আলমের উমরাহ পালন, মক্কা-মদিনা সফর কিংবা মিশরে ফিলিস্তিনি যুদ্ধাহত শিশুদের সহায়তা—এসব নিয়েই কারও আপত্তি নেই। বরং একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে তার এই সফরকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এই সফরের সফরসঙ্গী ও অর্থের উৎস নিয়ে?
সফরসঙ্গী চীফ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রশিদ মুন্না! উমরাহ সফরের ঘনিষ্ঠ সফরসঙ্গীদের একজন হিসেবে আলোচনায় এসেছেন চীফ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রশিদ মুন্না—যিনি একই সঙ্গে: সাবেক বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) চীফ ইঞ্জিনিয়ার
নৌ অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা,দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত নৌযান সার্ভেয়ার।,এবং একটি বিতর্কিত চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও নায়ক।
অভিযোগের সংক্ষিপ্ত তালিকা (সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী)
১. চাকরি ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ রয়েছে, বিএসসির জাহাজে চীফ ইঞ্জিনিয়ার থাকলেও তার কার্যকর সমুদ্র অভিজ্ঞতা সীমিত ছিল।
ঘুষের মাধ্যমে সরকারি পদ অর্জনের অভিযোগ
নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নৌ অধিদপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন তিনি। নিয়োগে সরকারি বিধি অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সার্ভে ও ফিটনেস সনদ বাণিজ্য
অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে তিনি টাকার বিনিময়ে আনফিট নৌযানকে ফিটনেস সনদ দিয়েছেন। দুদকে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।
বদলি ও পদ দখলের তদবির
ঢাকায় পোস্টিং পেতে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে কোটি টাকার তদবিরের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একজন সৎ কর্মকর্তাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার কথাও উঠে এসেছে।
আফতাবনগরের রেস্টুরেন্ট ও নৈতিক বিতর্ক
তার মালিকানাধীন একটি রেস্টুরেন্ট ঘিরে নারী শোষণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে—যা অত্যন্ত গুরুতর এবং তদন্তসাপেক্ষ।
চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ ও ক্ষমতার অপব্যবহার
প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘ধূসর কুয়াসা’ নামের চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জাহাজ মালিক ও শ্রমিকদের দিয়ে জোরপূর্বক দর্শক জোগাড়ের চেষ্টা করা হয়েছিল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো :
এই সব অভিযোগে অভিযুক্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা—কীভাবে একজন রাজনৈতিক নেতার পুরো উমরাহ সফরের ব্যয় বহন করেন?
উমরাহ সফরে ফ্লাইট, ফাইভ-স্টার হোটেল ও দলবলসহ মোট খরচ কত ছিল?
নির্বাচনি এলাকাতেও অর্থায়নের অভিযোগ সত্য কি না?
এই বিপুল বিনিয়োগের বিনিময়ে তিনি কী প্রত্যাশা করছেন? নৌ অধিদপ্তরের বড় পদ?
বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ?দ্রুত পদোন্নতি?নাকি শিপিং ব্যবসার সুবিধা?
এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়—এটি জনস্বার্থে প্রশ্ন? একজন রাজনৈতিক নেতার চারপাশে যদি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা ঘোরাফেরা করেন, তাহলে সেই নেতার নৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।এখন দেখার বিষয়,
জনাব সার্জিস আলম কি তার সফরসঙ্গীকে সত্যিই “ভালোভাবে চেনেন”?
নাকি সব জানার পরও নীরব থাকা হচ্ছে রাজনৈতিক সুবিধার হিসাবেই?জনগণ উত্তর জানতে চায়?











