নোনা মাটিতে মিষ্টি সম্ভাবনা: কলাপাড়ায় গোলগাছের রসে তৈরি সুস্বাদু গুড়
- আপডেট: ০৬:৫৫:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৪
নোনা মাটিতে মিষ্টি সম্ভাবনা: কলাপাড়ায় গোলগাছের রসে তৈরি সুস্বাদু গুড়
, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।
উপকূলীয় নোনা পানির জনপদ কলাপাড়ায় গোলগাছের রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভিন্ন স্বাদের সুস্বাদু গুড়। শীত মৌসুম এলেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩০০ পরিবার গোলগাছের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
প্রতিদিন ভোরবেলা কলস ও বালতি হাতে গোলগাছের বাগানে ছুটে যান গৃহস্থ পরিবারের সদস্যরা। সংগ্রহ করা রস বাড়ির উঠানে এনে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে ঢোঙায় রাখা হয়। এরপর খরকুটো জ্বালিয়ে তীব্র তাপে সেই রস ফুটিয়ে তৈরি করা হয় সুমিষ্ট ও ভিন্নধর্মী স্বাদের গোলের গুড়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গোলগাছ দেখতে অনেকটা নারিকেল পাতার মতো হলেও এটি নোনা পানিতে জন্মে। গাছের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নোনায় ভরা হলেও ডগা থেকে বের হয় মিষ্টি রস। সেই রস দিয়েই তৈরি হয় বহুল চাহিদাসম্পন্ন গুড়। মুখে নিলেই বোঝা যায় এর স্বাদের ভিন্নতা। কৃষিবিদদের মতে, গোলগাছ পাম গোত্রের একটি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির উদ্ভিদ।
গোলগাছ চাষীদের সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলায় বর্তমানে অন্তত ৬৫ হেক্টর জমিতে গোলগাছের বাগান রয়েছে। শীত মৌসুমে নীলগঞ্জ, মিঠাগঞ্জ ও চাকামইয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছেন। চলতি মৌসুমে এখান থেকে প্রায় ২০০ টন গোলের গুড় উৎপাদিত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৪ কোটি টাকা।
চাষীরা জানান, বড় ধরনের কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই গোলের গুড় উৎপাদন করা যায়। মৌসুমে প্রতিটি পরিবার অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। গোলগাছের পরিচর্যায় তেমন খরচ না থাকায় এটি উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য একটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নবীপুর গ্রামের গোলগাছ চাষী বিমল মৃধা বলেন, অগ্রহায়ণ মাস থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেন তিনি। তার বাগান থেকে প্রতিদিন পাঁচ কলস রস পাওয়া যায়, যা দিয়ে প্রায় ১০ কেজি গুড় তৈরি হয়। প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে গাছে গাছে ঘুরে রস সংগ্রহ করতে হয়।
অপর চাষী পরিমল হাওলাদার জানান, তিনি অন্যের বাগান বর্গা নিয়ে গোলের গুড় তৈরি করছেন। তার বাগানে প্রায় ২০০টি ছড়া রয়েছে। সেখান থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ কলস রস পাওয়া যায় এবং ১০ থেকে ১২ কেজি গুড় উৎপাদন হয়। চৈত্র মাস পর্যন্ত এভাবে রস সংগ্রহ চলবে বলে জানান তিনি।
গোলগাছের রস দিয়ে গুড় তৈরির পাশাপাশি পিঠা ও পায়েসও বেশ মুখরোচক বলে জানান স্থানীয়রা। এক সময় গোলের গুড় তেমন পরিচিত না থাকলেও বর্তমানে এটি বাণিজ্যিকভাবে বেশ প্রসার লাভ করেছে। এখন উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে এই সুমিষ্ট গুড়।
এদিকে বনবিভাগের পক্ষ থেকে উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে গোলগাছের বীজ রোপণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, “গোলগাছ একটি অর্থকরী ফসল। উপকূলীয় এলাকার জন্য এটি খুবই উপযোগী। কৃষি বিভাগ থেকে চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে গোলগাছের চাষ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে









