শিবালয়ে নয়াবাড়ি স্কুলের প্রধান ও সহকারী শিক্ষক দ্বন্দ্ব থানায় পৃথক জিডি
- আপডেট: ০৫:৫৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৯৭
ল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রধান শিক্ষক-সহকারী শিক্ষক দ্বন্দ্ব। থানায় পাল্টা পাল্টি জিডি। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী) বিকেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন ও সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম রাতে একে অপরের বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, এ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম (৪৮) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট ইভেন্ট দীর্ঘদিন যাবৎ পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু এ বছর তার নাম বাদ দিয়ে অন্য শিক্ষকদের দায়িত্ব দেন। এ নিয়ে শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের নিকট জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। উত্তেজিত হয়ে একে অপরকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের বাম হাতের কবজিতে কামড় দেন। অন্যান্য শিক্ষকগণ তাদের উভয়কে নিবৃত করে জাহিদুল ইসলামকে অন্য কক্ষে নিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষক ফারুক হোসেন জানান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় জাহিদুল ইসলামের নাম না থাকায় জাহিদুল ইসলাম সিনিয়র শিক্ষক মোঃ তপছের উদ্দিন ও শ্যামল চন্দ্র মন্ডলের নিকট আক্ষেপ করেন। প্রধান শিক্ষকের সাথে তিনি তর্ক-বির্তকের এক পর্যায়ে উপস্থিত সবাই এগিয়ে এসে তাদের নিবৃত করেন।
সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে নানা বিষয় নিয়ে অভিযোগ থাকায় বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ ৪ দফায় ৫ মাসের প্রধান শিক্ষকের বেতন কর্তন করেছেন। পূর্বের বিরোধের সূত্র ধরে তিনি হয়তো আমার উপর ক্ষীপ্ত আছেন। অনুষ্ঠানে আমার নাম বাদ দেয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষকের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক আমার বাম হাতে কামড় দেন। আমারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে থানায় জিডি করতে যান।
জাহিদুল ইসলাম আরও জানান, প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন সাবেক আওয়ামীলীগ সাংসদ এবিএম আনোয়ারুল হকের আত্মীয় পরিচয়ে ঘুষ, প্রশ্ন ফাঁস ও বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে ২৬/০৯/২০১২ তারখে বিতর্কিতভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। এর পর থেকেই আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে তিনি অনিয়ম দুর্নীতি নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বিগত ফ্যাস্টিস সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ সময় সরকার সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের (সাজু গ্রুপ) শিবালয় উপজেলার সভাপতি পদে ছিলেন। এ বিদ্যালয়ের ১০ম এডহক কমিটির মেয়াদ ২৬ অক্টোবর ২০২৫ শেষ হয়। অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি নিয়মিত কমিটি গঠন করছেন না। এতে, প্রতিষ্ঠানের নানা কার্যক্রম ব্যাহত, ছাত্র-ছাত্রী হ্রাস ও উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি তার কক্ষে বসে সাংস্কৃতিক সপ্তাহ সংক্রান্ত চিঠিপত্র প্রস্তুতের কাজ করছিলেন। তখন সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হন। গত বছর এ ইভেন্টের দায়িত্ব তিনি পালন করেছিলেন। তবে এ বছর তার পরিবর্তে তিনজন সিনিয়র শিক্ষককে ওই ইভেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, নয়াবাড়ির মাটিতে তাকে বাদ দিয়ে কোনো অনুষ্ঠান পরিচালিত হতে তিনি দেবেন না। জাহিদুল ইসলাম ইভেন্ট সংক্রান্ত কাগজপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। আমি বাঁধা দিলে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে সরিয়ে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রাণী কর্মকার জানান, বিষয়টি সম্পর্কে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।






















