পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি ব্রিজ নির্মাণে চরম অনিয়ম মরিচা ধরা রড ও কাদামাটির ওপর কাজ—জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট: ১০:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১০১
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি ব্রিজ নির্মাণে চরম অনিয়ম
মরিচা ধরা রড ও কাদামাটির ওপর কাজ—জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলাধীন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর হলদিবাড়িয়া এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের (পিআইও) আওতায় নির্মাণাধীন একটি গ্রাম্য সড়ক ব্রিজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থে নির্মিত এই ব্রিজের কাজে চরম অবহেলা ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে সরেজমিন অনুসন্ধানে।
গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, ব্রিজ নির্মাণে ব্যবহৃত রডগুলো দীর্ঘদিন খোলা অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে পুরোপুরি মরিচা ধরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, মরিচা ধরা রডের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যা যে কোনো কংক্রিট কাঠামোর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ এসব রড পরিষ্কার বা পরিবর্তন না করেই নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে, যা প্রকৌশল নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—নির্মাণস্থলে চারপাশে পানি ও কাদামাটি জমে থাকা অবস্থায়ই ঢালাই ও অন্যান্য কাজ চলছে। সঠিকভাবে মাটি প্রস্তুত না করে এভাবে কাজ চালানো হলে ব্রিজের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রিজটি ধসে পড়া বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত প্রকল্প নয়, জনগণের টাকায় নির্মিত সরকারি ব্রিজ। অথচ এখানে কাজ হচ্ছে এমনভাবে, যেন কেউ দেখার নেই।” তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই নিম্নমানের কাজ চালানো হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই করা হয়েছে কি না এবং কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা আদৌ নিয়মিত পরিদর্শন করছেন কি না—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও পিআইও কার্যালয়ের গাফিলতির কারণেই এ ধরনের অনিয়ম ঘটছে।
উক্ত ঘটনায় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানসম্মত উপকরণ দিয়ে পুনরায় কাজ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প যদি এভাবেই অনিয়ম ও অবহেলার মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়, তবে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা যে চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে—তা বলাই বাহুল্য।




















