০৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

“আবরার ফাহাদের শাহাদত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বড় প্রেরণা” — তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:২০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৫৯
মো. রাকিবুজ্জামান

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তার আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি; বরং এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শহীদ আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “বিগত সরকারের ১৬ বছরের দুঃশাসনে আবরার ফাহাদের মতো হাজারো শিক্ষার্থী নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অনেকে আহত বা মৃতপ্রায় অবস্থায় বেঁচে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছু সদস্য নিজেই শিক্ষার্থীদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। কারাগারে ভিন্ন মতাবলম্বী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, এমনকি শিবিরের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আবরার ফাহাদের শাহাদতের গভীর তাৎপর্য রয়েছে, যা অনুধাবন করা জরুরি। শেখ হাসিনা যে ভুল করেছেন, আমরা সেই ভুল করতে চাই না। ফ্যাসিজমের পথে না গিয়ে জনগণের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।”

মাহফুজ আলম বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে বিভাজন দুঃখজনক। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো ঐক্যবদ্ধভাবে একটি বহুসাংস্কৃতিক, মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণ করা। জনগণের সামনে একটি ভালো বিকল্প উপস্থাপন করতে না পারলে তারা আবার পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাবে।”

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “২০১৯ সালে বুয়েটে ছাত্রলীগের গুণ্ডারা আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছিল, কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করেছে— এমন কণ্ঠ কখনও স্তব্ধ হয় না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া প্রতিটি তরুণের হৃদয়ে আবরারের স্পন্দন আজও বেঁচে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ন্যারেটিভ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি বিগত সরকারের ১৬ বছরের দুঃশাসনের ইতিহাসও তুলে ধরতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানে, কিভাবে সাংস্কৃতিক বৈষম্য একসময় ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল।”

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা-সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয় এবং সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় ‘চলচ্চিত্রে জুলাই’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০
বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

“আবরার ফাহাদের শাহাদত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বড় প্রেরণা” — তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

আপডেট: ১১:২০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
মো. রাকিবুজ্জামান

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তার আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি; বরং এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শহীদ আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “বিগত সরকারের ১৬ বছরের দুঃশাসনে আবরার ফাহাদের মতো হাজারো শিক্ষার্থী নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অনেকে আহত বা মৃতপ্রায় অবস্থায় বেঁচে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছু সদস্য নিজেই শিক্ষার্থীদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। কারাগারে ভিন্ন মতাবলম্বী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, এমনকি শিবিরের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আবরার ফাহাদের শাহাদতের গভীর তাৎপর্য রয়েছে, যা অনুধাবন করা জরুরি। শেখ হাসিনা যে ভুল করেছেন, আমরা সেই ভুল করতে চাই না। ফ্যাসিজমের পথে না গিয়ে জনগণের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।”

মাহফুজ আলম বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে বিভাজন দুঃখজনক। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো ঐক্যবদ্ধভাবে একটি বহুসাংস্কৃতিক, মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণ করা। জনগণের সামনে একটি ভালো বিকল্প উপস্থাপন করতে না পারলে তারা আবার পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাবে।”

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “২০১৯ সালে বুয়েটে ছাত্রলীগের গুণ্ডারা আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছিল, কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করেছে— এমন কণ্ঠ কখনও স্তব্ধ হয় না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া প্রতিটি তরুণের হৃদয়ে আবরারের স্পন্দন আজও বেঁচে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ন্যারেটিভ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি বিগত সরকারের ১৬ বছরের দুঃশাসনের ইতিহাসও তুলে ধরতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানে, কিভাবে সাংস্কৃতিক বৈষম্য একসময় ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল।”

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা-সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয় এবং সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় ‘চলচ্চিত্রে জুলাই’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা।