০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

রোজা শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুশীলন নয় স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত ভালো

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০২:২৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫
  • / ২৯৪

রোজা শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুশীলন নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী—এ কথা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত। দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার ফলে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। ইসলাম ধর্মের প্রতিটি বিধান মানবকল্যাণে নিবেদিত, যদিও অনেক ক্ষেত্রে এর সুফল সম্পর্কে আমরা অবগত নই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে রোজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে, দেহের বিপাকীয় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনার মাধ্যমে এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো জটিল সমস্যাগুলোর ঝুঁকি কমায়। বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা গবেষকরা রোজার উপকারিতা নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং এর স্বাস্থ্যকর দিকগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। জাপানি চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহশোমি তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, রোজার ফলে শরীরে ‘অটোফেজি’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়, যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।

রোজার উপকারিতা

১. চর্বি কমানো: রোজা রাখলে শরীর সংরক্ষিত গ্লাইকোজেন ১০-১২ ঘণ্টার মধ্যে ফুরিয়ে গেলে চর্বি পোড়ানো শুরু করে। এটি হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ানো, রক্তচাপ ও রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং পেটের চর্বি কমাতে সহায়তা করে।

২. পেটের স্বাস্থ্য রক্ষা: রোজা পেটের উপকারী জীবাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে।

৩. ওজন কমানো: বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পরিচালিত ৩৫টি গবেষণায় দেখা গেছে, রমজান শেষে গড়ে ১ থেকে ১.৫ কেজি ওজন কমে।

৪. রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: তুরস্কসহ ১৬টি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, রোজা রক্তে সুগারের মাত্রা স্থিতিশীল রাখে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

৫. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও বাহরাইনের ৯১টি গবেষণা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রোজা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে।

৬. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: ২০১৯ সালে লন্ডনের পাঁচটি মসজিদে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, রমজানে সিস্টোলিক ব্লাড প্রেসার গড়ে সাত মিলিমিটার মার্কারি এবং ডায়াস্টোলিক ব্লাড প্রেসার তিন মিলিমিটার মার্কারি কমে।

রোজা শুধুমাত্র আত্মশুদ্ধি ও ধর্মীয় অনুশীলনই নয়, এটি শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির জন্যও অত্যন্ত উপকারী। বিজ্ঞান ও ইসলাম উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই রোজার গুরুত্ব অনস্বীকার্য, যা মানুষের সুস্থ, সচেতন ও সংযমী জীবনযাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাভার প্রতিনিধি। ​শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুর ৩ টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম সবুজের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে নজরুল ইসলাম সবুজ বলেন শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। দেশে আইনের শাসনের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে।” বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশন ও বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। বলেন, আজ নারী ও শিশুরা ঘরে কিংবা বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। বক্তারা অনতিবিলম্বে রামিসা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে জনসম্মুখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অন্যথায়, সাধারণ শ্রমিকদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও রাজপথ কাঁপানো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। উক্ত প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন: ইয়াসিন আরাফাত (সভাপতি, সাভার থানা কমিটি) শ্রী রবিন চন্দ্র রায় (সহ-সভাপতি)তনিমা হামিদ সুমি (সাধারণ সম্পাদক)নাজমুল ইসলাম রাকিব (দপ্তর সম্পাদক)মোছাঃ মুন্নী খাতুন (নারী বিষয়ক সম্পাদক)মোছাঃ মনিরা খাতুন (অর্থ বিষয়ক সম্পাদক)এস রহমান (কার্যকরী সদস্য)এ সময় বিভিন্ন পোশাক কারখানার ইউনিয়নভুক্ত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও স্থানীয় সাধারণ জনতা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

রোজা শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুশীলন নয় স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত ভালো

আপডেট: ০২:২৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫

রোজা শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুশীলন নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী—এ কথা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত। দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার ফলে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। ইসলাম ধর্মের প্রতিটি বিধান মানবকল্যাণে নিবেদিত, যদিও অনেক ক্ষেত্রে এর সুফল সম্পর্কে আমরা অবগত নই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে রোজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে, দেহের বিপাকীয় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনার মাধ্যমে এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো জটিল সমস্যাগুলোর ঝুঁকি কমায়। বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা গবেষকরা রোজার উপকারিতা নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং এর স্বাস্থ্যকর দিকগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। জাপানি চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহশোমি তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, রোজার ফলে শরীরে ‘অটোফেজি’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়, যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।

রোজার উপকারিতা

১. চর্বি কমানো: রোজা রাখলে শরীর সংরক্ষিত গ্লাইকোজেন ১০-১২ ঘণ্টার মধ্যে ফুরিয়ে গেলে চর্বি পোড়ানো শুরু করে। এটি হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ানো, রক্তচাপ ও রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং পেটের চর্বি কমাতে সহায়তা করে।

২. পেটের স্বাস্থ্য রক্ষা: রোজা পেটের উপকারী জীবাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে।

৩. ওজন কমানো: বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পরিচালিত ৩৫টি গবেষণায় দেখা গেছে, রমজান শেষে গড়ে ১ থেকে ১.৫ কেজি ওজন কমে।

৪. রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: তুরস্কসহ ১৬টি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, রোজা রক্তে সুগারের মাত্রা স্থিতিশীল রাখে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

৫. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও বাহরাইনের ৯১টি গবেষণা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রোজা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে।

৬. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: ২০১৯ সালে লন্ডনের পাঁচটি মসজিদে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, রমজানে সিস্টোলিক ব্লাড প্রেসার গড়ে সাত মিলিমিটার মার্কারি এবং ডায়াস্টোলিক ব্লাড প্রেসার তিন মিলিমিটার মার্কারি কমে।

রোজা শুধুমাত্র আত্মশুদ্ধি ও ধর্মীয় অনুশীলনই নয়, এটি শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির জন্যও অত্যন্ত উপকারী। বিজ্ঞান ও ইসলাম উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই রোজার গুরুত্ব অনস্বীকার্য, যা মানুষের সুস্থ, সচেতন ও সংযমী জীবনযাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।