০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি: কার্যকর করা কি আদৌ সম্ভব?

Multimedia News Desk
  • আপডেট: ১১:২২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫
  • / ৩১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান মোটেও সহজ কাজ নয়। যুদ্ধবিরতির জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানোও অত্যন্ত জটিল। সৌদি আরবের জেদ্দায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর ইউক্রেন সর্বোচ্চ ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনও অস্পষ্ট।

যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা: ইতিহাস কি বলে?

রাশিয়ার পূর্ব ইতিহাস অনুযায়ী, তারা বেশ কয়েকবার শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া থাকা জরুরি।

২০১৪ ও ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির অধীনে ওএসসিই (অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ) ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে শান্তি পর্যবেক্ষণ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে এই পর্যবেক্ষণ কার্যকর হয়নি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
🔹 ২০১৭ সালে ৪ লাখবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হয়েছিল, নিহত হয়েছিল ৪৮৬ জন
🔹 ২০২১ সালে লঙ্ঘনের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯৩,৯০২ বার, নিহত ৯১ জন
🔹 এর মাত্র দুই মাস পরই রাশিয়া পূর্ণদমে ইউক্রেনে হামলা চালায়।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে কী প্রয়োজন?

সাবেক সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে নতুন কৌশল ও শক্তিশালী বাহিনী দরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতামত:
🔸 ড্রোন, স্যাটেলাইট ও এআইভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন সামির পুরি, যিনি ওএসসিইর ইউক্রেন মিশনের সাবেক পর্যবেক্ষক।
🔸 রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘‘যদি ২,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টলাইন থাকে, তাহলে যুদ্ধবিরতি কে নিয়ন্ত্রণ করবে?’’

ইউরোপীয় বাহিনী কি সমাধান হতে পারে?

ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের কথা ভাবছে। কিন্তু এই বাহিনী শান্তিরক্ষার জন্য নয়, বরং ইউক্রেনের আকাশসীমা, সমুদ্রবন্দর এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার জন্য কাজ করবে।

এদিকে, জাতিসংঘের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের চিন্তা করা হলেও রাশিয়ার ভেটো ক্ষমতা এটিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি নিরপেক্ষ বেসামরিক অঞ্চল গড়ে তোলা হতে পারে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান।
✅ সেখানে ইউক্রেন ও রাশিয়ার বিশেষ বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
✅ চীন বা রাশিয়ার অন্যান্য মিত্রদেশের সেনারা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, রাশিয়ার আধিপত্যবাদী মনোভাবের কারণে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

শেষ কথা

যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে দুই পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে এবং পূর্বের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। যদি রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই সহিংসতা এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি না নেয়, তাহলে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

জন ফোরম্যানের মতে, ‘‘শান্তিতে পৌঁছানোর আগে আরও অনেক বাধা আসবে। এসব বাধা অতিক্রম করাই আসল চ্যালেঞ্জ।’’

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাভার প্রতিনিধি। ​শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুর ৩ টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম সবুজের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে নজরুল ইসলাম সবুজ বলেন শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। দেশে আইনের শাসনের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে।” বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশন ও বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। বলেন, আজ নারী ও শিশুরা ঘরে কিংবা বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। বক্তারা অনতিবিলম্বে রামিসা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে জনসম্মুখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অন্যথায়, সাধারণ শ্রমিকদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও রাজপথ কাঁপানো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। উক্ত প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন: ইয়াসিন আরাফাত (সভাপতি, সাভার থানা কমিটি) শ্রী রবিন চন্দ্র রায় (সহ-সভাপতি)তনিমা হামিদ সুমি (সাধারণ সম্পাদক)নাজমুল ইসলাম রাকিব (দপ্তর সম্পাদক)মোছাঃ মুন্নী খাতুন (নারী বিষয়ক সম্পাদক)মোছাঃ মনিরা খাতুন (অর্থ বিষয়ক সম্পাদক)এস রহমান (কার্যকরী সদস্য)এ সময় বিভিন্ন পোশাক কারখানার ইউনিয়নভুক্ত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও স্থানীয় সাধারণ জনতা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি: কার্যকর করা কি আদৌ সম্ভব?

আপডেট: ১১:২২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান মোটেও সহজ কাজ নয়। যুদ্ধবিরতির জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানোও অত্যন্ত জটিল। সৌদি আরবের জেদ্দায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর ইউক্রেন সর্বোচ্চ ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনও অস্পষ্ট।

যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা: ইতিহাস কি বলে?

রাশিয়ার পূর্ব ইতিহাস অনুযায়ী, তারা বেশ কয়েকবার শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া থাকা জরুরি।

২০১৪ ও ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির অধীনে ওএসসিই (অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ) ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে শান্তি পর্যবেক্ষণ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে এই পর্যবেক্ষণ কার্যকর হয়নি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
🔹 ২০১৭ সালে ৪ লাখবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হয়েছিল, নিহত হয়েছিল ৪৮৬ জন
🔹 ২০২১ সালে লঙ্ঘনের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯৩,৯০২ বার, নিহত ৯১ জন
🔹 এর মাত্র দুই মাস পরই রাশিয়া পূর্ণদমে ইউক্রেনে হামলা চালায়।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে কী প্রয়োজন?

সাবেক সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে নতুন কৌশল ও শক্তিশালী বাহিনী দরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতামত:
🔸 ড্রোন, স্যাটেলাইট ও এআইভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন সামির পুরি, যিনি ওএসসিইর ইউক্রেন মিশনের সাবেক পর্যবেক্ষক।
🔸 রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘‘যদি ২,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টলাইন থাকে, তাহলে যুদ্ধবিরতি কে নিয়ন্ত্রণ করবে?’’

ইউরোপীয় বাহিনী কি সমাধান হতে পারে?

ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের কথা ভাবছে। কিন্তু এই বাহিনী শান্তিরক্ষার জন্য নয়, বরং ইউক্রেনের আকাশসীমা, সমুদ্রবন্দর এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার জন্য কাজ করবে।

এদিকে, জাতিসংঘের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের চিন্তা করা হলেও রাশিয়ার ভেটো ক্ষমতা এটিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি নিরপেক্ষ বেসামরিক অঞ্চল গড়ে তোলা হতে পারে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান।
✅ সেখানে ইউক্রেন ও রাশিয়ার বিশেষ বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
✅ চীন বা রাশিয়ার অন্যান্য মিত্রদেশের সেনারা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, রাশিয়ার আধিপত্যবাদী মনোভাবের কারণে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

শেষ কথা

যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে দুই পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে এবং পূর্বের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। যদি রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই সহিংসতা এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি না নেয়, তাহলে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

জন ফোরম্যানের মতে, ‘‘শান্তিতে পৌঁছানোর আগে আরও অনেক বাধা আসবে। এসব বাধা অতিক্রম করাই আসল চ্যালেঞ্জ।’’