০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে বিদায়ী রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যানের বিস্ফোরক বক্তব্য!,,,

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট: ০৪:১৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৮১

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে বিদায়ী রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যানের বিস্ফোরক বক্তব্য!
বিশেষ প্রতিবেদক :
দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে শুরু হয় ব্যাপক রদবদল। সেই পরিবর্তনের ঢেউ পৌঁছায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতেও। সেখানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল ইসলাম। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে ওঠে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ— স্বেচ্ছাচারিতা, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য, সংবিধান ভঙ্গ করে সভা আহ্বান, এবং উপ-মহাসচিবের মেয়াদ বেআইনিভাবে বাড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড। এতে সংগঠনের অভ্যন্তরে ক্ষোভ ও বিভাজন চরমে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গড়ায় যে, ভাইস চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের চার সদস্য পদত্যাগ করেন। অবশেষে নিজেও পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম— রেড ক্রিসেন্টে নেতৃত্বের অস্থিরতা তখন চূড়ান্ত রূপ নেয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরেই তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করেন। তবে তার দাবি, “পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পাচ্ছিলাম না, উপরন্তু মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।”
রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে রেড ক্রিসেন্ট কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“আমি গণমাধ্যমের মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি জানাচ্ছি। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র পাঠাবো। পাঠাতে এক-দুই দিন সময় লাগতে পারে, তাই আগে থেকেই সবাইকে জানিয়ে দিলাম।”কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আজিজুল ইসলাম বলেন,“রেড ক্রিসেন্টকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ১০০ কোটি টাকার দেনা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছিলাম, সেটি এখনও চলছে। কিন্তু বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও হস্তক্ষেপের কারণে কাজ এগোচ্ছিল না। তাই পদত্যাগই শ্রেয় মনে করেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড সদস্য রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) শাহে আলম, ডা. শেখ জাফর ও অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউসুফ।
তাদের একজন বলেন,
“মন্ত্রণালয় প্রতিদিনের কাজেও হস্তক্ষেপ করছে। এভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।”
পদত্যাগী চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন,
“সংস্থার কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন।”
রেড ক্রিসেন্টে অস্থিরতার দায় কার— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,“আপনারা সাংবাদিকরা জাতির বিবেক, অনুসন্ধান করলেই সব জানা যাবে।”
রেড ক্রিসেন্টে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা :
দুর্যোগকালে মানবিক সহায়তার জন্য খ্যাত এই সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারে জর্জরিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নতুন বোর্ড গঠনের পর থেকেই ভেতরে ভেতরে অস্থিরতা শুরু হয়।চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠে— নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ, নারী নির্যাতনের শাস্তি বাতিল, দুর্নীতিতে জড়িতদের পুনর্বহাল, রাজনৈতিক বিবেচনায় বদলি-পদোন্নতি এবং স্বেচ্ছাসেবক দমনপীড়নের অভিযোগ।গত অক্টোবরে এসব অনিয়মের প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা এক সপ্তাহ আন্দোলন করেন। আন্দোলন দমন হলেও বোর্ডে অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়। পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যান, কোষাধ্যক্ষসহ চার সদস্য পদত্যাগ করায় বোর্ড কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও চেয়ারম্যানের তড়িঘড়ি পদত্যাগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, রেড ক্রিসেন্টের অনিয়ম ও প্রশাসনিক স্থবিরতা পর্যবেক্ষণ করে সরকার বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
৪ নভেম্বর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের স্বাক্ষরিত প্রস্তাবনায় একজন নারীকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যের নতুন বোর্ড গঠনের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। একই সঙ্গে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার যাচাইয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের পরিকল্পনাও নেয় মন্ত্রণালয়।
এ খবর জানাজানি হওয়ার পর ৫ নভেম্বর আজিজুল ইসলাম স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও তিনি সাক্ষাৎ পাননি।
এরপরই ৯ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
“মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমি জানি না। তবে মনে হয়েছে এখানে কাজ করার পরিবেশ আর নেই। সেই কারণেই পদত্যাগ করেছি।
রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ডা. আজিজুল ইসলামের পদত্যাগে সংস্থাটিতে নেতৃত্ব সংকট আরও গভীর হয়েছে। অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে বহুদিন ধরে আলোচিত এই সংস্থা আবারও নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়লো।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০
বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে বিদায়ী রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যানের বিস্ফোরক বক্তব্য!,,,

আপডেট: ০৪:১৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে বিদায়ী রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যানের বিস্ফোরক বক্তব্য!
বিশেষ প্রতিবেদক :
দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে শুরু হয় ব্যাপক রদবদল। সেই পরিবর্তনের ঢেউ পৌঁছায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতেও। সেখানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল ইসলাম। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে ওঠে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ— স্বেচ্ছাচারিতা, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য, সংবিধান ভঙ্গ করে সভা আহ্বান, এবং উপ-মহাসচিবের মেয়াদ বেআইনিভাবে বাড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড। এতে সংগঠনের অভ্যন্তরে ক্ষোভ ও বিভাজন চরমে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গড়ায় যে, ভাইস চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের চার সদস্য পদত্যাগ করেন। অবশেষে নিজেও পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম— রেড ক্রিসেন্টে নেতৃত্বের অস্থিরতা তখন চূড়ান্ত রূপ নেয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরেই তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করেন। তবে তার দাবি, “পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পাচ্ছিলাম না, উপরন্তু মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।”
রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে রেড ক্রিসেন্ট কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“আমি গণমাধ্যমের মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি জানাচ্ছি। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র পাঠাবো। পাঠাতে এক-দুই দিন সময় লাগতে পারে, তাই আগে থেকেই সবাইকে জানিয়ে দিলাম।”কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আজিজুল ইসলাম বলেন,“রেড ক্রিসেন্টকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ১০০ কোটি টাকার দেনা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছিলাম, সেটি এখনও চলছে। কিন্তু বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও হস্তক্ষেপের কারণে কাজ এগোচ্ছিল না। তাই পদত্যাগই শ্রেয় মনে করেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড সদস্য রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) শাহে আলম, ডা. শেখ জাফর ও অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউসুফ।
তাদের একজন বলেন,
“মন্ত্রণালয় প্রতিদিনের কাজেও হস্তক্ষেপ করছে। এভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।”
পদত্যাগী চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন,
“সংস্থার কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন।”
রেড ক্রিসেন্টে অস্থিরতার দায় কার— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,“আপনারা সাংবাদিকরা জাতির বিবেক, অনুসন্ধান করলেই সব জানা যাবে।”
রেড ক্রিসেন্টে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা :
দুর্যোগকালে মানবিক সহায়তার জন্য খ্যাত এই সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারে জর্জরিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নতুন বোর্ড গঠনের পর থেকেই ভেতরে ভেতরে অস্থিরতা শুরু হয়।চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠে— নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ, নারী নির্যাতনের শাস্তি বাতিল, দুর্নীতিতে জড়িতদের পুনর্বহাল, রাজনৈতিক বিবেচনায় বদলি-পদোন্নতি এবং স্বেচ্ছাসেবক দমনপীড়নের অভিযোগ।গত অক্টোবরে এসব অনিয়মের প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা এক সপ্তাহ আন্দোলন করেন। আন্দোলন দমন হলেও বোর্ডে অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়। পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যান, কোষাধ্যক্ষসহ চার সদস্য পদত্যাগ করায় বোর্ড কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও চেয়ারম্যানের তড়িঘড়ি পদত্যাগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, রেড ক্রিসেন্টের অনিয়ম ও প্রশাসনিক স্থবিরতা পর্যবেক্ষণ করে সরকার বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
৪ নভেম্বর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের স্বাক্ষরিত প্রস্তাবনায় একজন নারীকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যের নতুন বোর্ড গঠনের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। একই সঙ্গে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার যাচাইয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের পরিকল্পনাও নেয় মন্ত্রণালয়।
এ খবর জানাজানি হওয়ার পর ৫ নভেম্বর আজিজুল ইসলাম স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও তিনি সাক্ষাৎ পাননি।
এরপরই ৯ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
“মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমি জানি না। তবে মনে হয়েছে এখানে কাজ করার পরিবেশ আর নেই। সেই কারণেই পদত্যাগ করেছি।
রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ডা. আজিজুল ইসলামের পদত্যাগে সংস্থাটিতে নেতৃত্ব সংকট আরও গভীর হয়েছে। অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে বহুদিন ধরে আলোচিত এই সংস্থা আবারও নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়লো।