০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি ব্রিজ নির্মাণে চরম অনিয়ম মরিচা ধরা রড ও কাদামাটির ওপর কাজ—জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট: ১০:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৫

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি ব্রিজ নির্মাণে চরম অনিয়ম
মরিচা ধরা রড ও কাদামাটির ওপর কাজ—জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলাধীন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর হলদিবাড়িয়া এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের (পিআইও) আওতায় নির্মাণাধীন একটি গ্রাম্য সড়ক ব্রিজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থে নির্মিত এই ব্রিজের কাজে চরম অবহেলা ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে সরেজমিন অনুসন্ধানে।
গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, ব্রিজ নির্মাণে ব্যবহৃত রডগুলো দীর্ঘদিন খোলা অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে পুরোপুরি মরিচা ধরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, মরিচা ধরা রডের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যা যে কোনো কংক্রিট কাঠামোর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ এসব রড পরিষ্কার বা পরিবর্তন না করেই নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে, যা প্রকৌশল নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—নির্মাণস্থলে চারপাশে পানি ও কাদামাটি জমে থাকা অবস্থায়ই ঢালাই ও অন্যান্য কাজ চলছে। সঠিকভাবে মাটি প্রস্তুত না করে এভাবে কাজ চালানো হলে ব্রিজের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রিজটি ধসে পড়া বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত প্রকল্প নয়, জনগণের টাকায় নির্মিত সরকারি ব্রিজ। অথচ এখানে কাজ হচ্ছে এমনভাবে, যেন কেউ দেখার নেই।” তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই নিম্নমানের কাজ চালানো হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই করা হয়েছে কি না এবং কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা আদৌ নিয়মিত পরিদর্শন করছেন কি না—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও পিআইও কার্যালয়ের গাফিলতির কারণেই এ ধরনের অনিয়ম ঘটছে।
উক্ত ঘটনায় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানসম্মত উপকরণ দিয়ে পুনরায় কাজ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প যদি এভাবেই অনিয়ম ও অবহেলার মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়, তবে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা যে চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে—তা বলাই বাহুল্য।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাভার প্রতিনিধি। ​শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুর ৩ টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম সবুজের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে নজরুল ইসলাম সবুজ বলেন শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। দেশে আইনের শাসনের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে।” বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশন ও বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। বলেন, আজ নারী ও শিশুরা ঘরে কিংবা বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। বক্তারা অনতিবিলম্বে রামিসা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে জনসম্মুখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অন্যথায়, সাধারণ শ্রমিকদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও রাজপথ কাঁপানো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। উক্ত প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন: ইয়াসিন আরাফাত (সভাপতি, সাভার থানা কমিটি) শ্রী রবিন চন্দ্র রায় (সহ-সভাপতি)তনিমা হামিদ সুমি (সাধারণ সম্পাদক)নাজমুল ইসলাম রাকিব (দপ্তর সম্পাদক)মোছাঃ মুন্নী খাতুন (নারী বিষয়ক সম্পাদক)মোছাঃ মনিরা খাতুন (অর্থ বিষয়ক সম্পাদক)এস রহমান (কার্যকরী সদস্য)এ সময় বিভিন্ন পোশাক কারখানার ইউনিয়নভুক্ত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও স্থানীয় সাধারণ জনতা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি ব্রিজ নির্মাণে চরম অনিয়ম মরিচা ধরা রড ও কাদামাটির ওপর কাজ—জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট: ১০:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি ব্রিজ নির্মাণে চরম অনিয়ম
মরিচা ধরা রড ও কাদামাটির ওপর কাজ—জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলাধীন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর হলদিবাড়িয়া এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের (পিআইও) আওতায় নির্মাণাধীন একটি গ্রাম্য সড়ক ব্রিজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থে নির্মিত এই ব্রিজের কাজে চরম অবহেলা ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে সরেজমিন অনুসন্ধানে।
গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, ব্রিজ নির্মাণে ব্যবহৃত রডগুলো দীর্ঘদিন খোলা অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে পুরোপুরি মরিচা ধরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, মরিচা ধরা রডের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যা যে কোনো কংক্রিট কাঠামোর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ এসব রড পরিষ্কার বা পরিবর্তন না করেই নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে, যা প্রকৌশল নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—নির্মাণস্থলে চারপাশে পানি ও কাদামাটি জমে থাকা অবস্থায়ই ঢালাই ও অন্যান্য কাজ চলছে। সঠিকভাবে মাটি প্রস্তুত না করে এভাবে কাজ চালানো হলে ব্রিজের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রিজটি ধসে পড়া বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত প্রকল্প নয়, জনগণের টাকায় নির্মিত সরকারি ব্রিজ। অথচ এখানে কাজ হচ্ছে এমনভাবে, যেন কেউ দেখার নেই।” তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই নিম্নমানের কাজ চালানো হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই করা হয়েছে কি না এবং কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা আদৌ নিয়মিত পরিদর্শন করছেন কি না—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও পিআইও কার্যালয়ের গাফিলতির কারণেই এ ধরনের অনিয়ম ঘটছে।
উক্ত ঘটনায় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানসম্মত উপকরণ দিয়ে পুনরায় কাজ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প যদি এভাবেই অনিয়ম ও অবহেলার মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়, তবে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা যে চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে—তা বলাই বাহুল্য।