০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

জুলাই আন্দোলনে শহীদ রিফাত হত্যা মামলার আসামি চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকারের ‘খুঁটির জোর’ কোথায়?

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট: ১১:১৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২২৪

জুলাই আন্দোলনে শহীদ রিফাত হত্যা মামলার আসামি চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকারের ‘খুঁটির জোর’ কোথায়?

স্টাফ রিপোর্টার | দাউদকান্দি, কুমিল্লা

জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও শহীদ রিফাত হত্যা মামলার আসামি পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকারের রাজনৈতিক তৎপরতা ও প্রভাব নিয়ে দাউদকান্দি উপজেলায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—কোথায় তাঁর ‘খুঁটির জোর’?

অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মনির হোসেন সরকার জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা এবং শহীদ রিফাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। তিনি দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমানে কারাগারে থাকা মেজর মোহাম্মদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকার গোপনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠককে ঘিরে পদুয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগকে পুনরায় সুসংগঠিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করেছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনে অর্থায়নসহ ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে নাশকতা, সহিংসতা এমনকি গোপন হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পরিকল্পনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রতি মাসে চিকিৎসার কথা বলে ভারত সফর করে সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছেন।

পদুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মনির হোসেন সরকারের সঙ্গে দলের একাধিক শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তিনি কাউকে তোয়াক্কা করতেন না। সে সময় প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাজার ও সড়কে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, টাকা ছিনতাই এবং নিকটস্থ শ্রীরায়ের চর বাজারে চাঁদাবাজি ছিল তার নিত্যদিনের কর্মকাণ্ড—এমন অভিযোগও এলাকাবাসীর।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ বর্তমানে ক্ষমতায় না থাকলেও চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকার গোপনে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনটিকে আবার মাঠে সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন।

এদিকে এলাকায় কানাঘুষা ও তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে—গুরুতর মামলার আসামি হয়েও কীভাবে এমন একজন ব্যক্তি আদালত থেকে জামিন পাচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আর কতজন নিরীহ মানুষ ও শিক্ষার্থী শহীদ হলে প্রশাসনের টনক নড়বে?

পদুয়া ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের জোর দাবি, অবিলম্বে চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকারের পাসপোর্ট জব্দ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাভার প্রতিনিধি। ​শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুর ৩ টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম সবুজের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে নজরুল ইসলাম সবুজ বলেন শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। দেশে আইনের শাসনের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে।” বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশন ও বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। বলেন, আজ নারী ও শিশুরা ঘরে কিংবা বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। বক্তারা অনতিবিলম্বে রামিসা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে জনসম্মুখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অন্যথায়, সাধারণ শ্রমিকদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও রাজপথ কাঁপানো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। উক্ত প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন: ইয়াসিন আরাফাত (সভাপতি, সাভার থানা কমিটি) শ্রী রবিন চন্দ্র রায় (সহ-সভাপতি)তনিমা হামিদ সুমি (সাধারণ সম্পাদক)নাজমুল ইসলাম রাকিব (দপ্তর সম্পাদক)মোছাঃ মুন্নী খাতুন (নারী বিষয়ক সম্পাদক)মোছাঃ মনিরা খাতুন (অর্থ বিষয়ক সম্পাদক)এস রহমান (কার্যকরী সদস্য)এ সময় বিভিন্ন পোশাক কারখানার ইউনিয়নভুক্ত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও স্থানীয় সাধারণ জনতা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

জুলাই আন্দোলনে শহীদ রিফাত হত্যা মামলার আসামি চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকারের ‘খুঁটির জোর’ কোথায়?

আপডেট: ১১:১৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই আন্দোলনে শহীদ রিফাত হত্যা মামলার আসামি চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকারের ‘খুঁটির জোর’ কোথায়?

স্টাফ রিপোর্টার | দাউদকান্দি, কুমিল্লা

জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও শহীদ রিফাত হত্যা মামলার আসামি পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকারের রাজনৈতিক তৎপরতা ও প্রভাব নিয়ে দাউদকান্দি উপজেলায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—কোথায় তাঁর ‘খুঁটির জোর’?

অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মনির হোসেন সরকার জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা এবং শহীদ রিফাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। তিনি দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমানে কারাগারে থাকা মেজর মোহাম্মদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকার গোপনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠককে ঘিরে পদুয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগকে পুনরায় সুসংগঠিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করেছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনে অর্থায়নসহ ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে নাশকতা, সহিংসতা এমনকি গোপন হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পরিকল্পনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রতি মাসে চিকিৎসার কথা বলে ভারত সফর করে সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছেন।

পদুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মনির হোসেন সরকারের সঙ্গে দলের একাধিক শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তিনি কাউকে তোয়াক্কা করতেন না। সে সময় প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাজার ও সড়কে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, টাকা ছিনতাই এবং নিকটস্থ শ্রীরায়ের চর বাজারে চাঁদাবাজি ছিল তার নিত্যদিনের কর্মকাণ্ড—এমন অভিযোগও এলাকাবাসীর।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ বর্তমানে ক্ষমতায় না থাকলেও চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকার গোপনে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনটিকে আবার মাঠে সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন।

এদিকে এলাকায় কানাঘুষা ও তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে—গুরুতর মামলার আসামি হয়েও কীভাবে এমন একজন ব্যক্তি আদালত থেকে জামিন পাচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আর কতজন নিরীহ মানুষ ও শিক্ষার্থী শহীদ হলে প্রশাসনের টনক নড়বে?

পদুয়া ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের জোর দাবি, অবিলম্বে চেয়ারম্যান মনির হোসেন সরকারের পাসপোর্ট জব্দ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।