০১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

ঈদুল আযহা উপলক্ষে বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • / ৪৪২

কামার

বিশেষ প্রতিনিধি: মুজাহিদ খাঁন কাওছার

ঈদুল আযহার আগমনী বার্তা নিয়ে দেশের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের কামারপট্টিগুলোতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি তৈরির ধুম। বছরজুড়ে অপেক্ষাকৃত নিস্তরঙ্গ সময় কাটানো কামাররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক এলাকায় যেখানে বছরের অন্যান্য সময় চুল্লি নিভে থাকত, সেখানে এখন আগুনের লেলিহান শিখা আর লোহার ঠুকঠাক শব্দে মুখর চারপাশ।

সাভার ও আশুলিয়ার নামা বাজার, গেন্ডা, হেমায়েতপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, পলাশবাড়ী, জিরাবো, জামগড়া, নরসিংহপুর, বলিভদ্র, কলমা, দোসাইদ, ঘোষবাগ ও নলাম ঘোড়া পীর মাজারসহ বিভিন্ন কামারপট্টিতে গিয়ে দেখা গেছে, অনেকেই ছুরি বা বঁটি ধার করাতে ভিড় করছেন। কেউ কেউ আবার অর্ডার দিচ্ছেন নতুন দা, চাপাতি বা ছুরি বানানোর জন্য। গড়ে প্রতিদিন ১৫-২০টি অর্ডার নিচ্ছেন একজন কামার।

আলম নামের এক অভিজ্ঞ কামার বলেন, “ঈদের আগে চাপ বেড়ে যায়। এখন প্রতিদিন গড়ে ১৫ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। লোহা, আগুন আর ঘামে আমাদের দিন কেটে যায়।”

তবে ব্যস্ততার মাঝেও আছে কিছু চ্যালেঞ্জ। লোহার দাম গত কয়েক বছরে ৩০–৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে। সেইসঙ্গে কয়লা ও অন্যান্য কাঁচামালের সংকট বেড়েছে। কিন্তু প্রতিযোগিতার বাজারে দাম বাড়াতে পারছেন না কামাররা।

আশুলিয়া বাজারের কামার হাফিজুর রহমান জানান, “লোহার দাম বাড়লেও পুরোনো দামের আশেপাশেই জিনিস বিক্রি করতে হয়। অনেক সময় লাভ না হলেও পুরোনো ক্রেতার কথা ভেবে কাজ করি।”

এই সময়টায় অনেক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা পণ্য নিয়ে ঘুরে বেড়ান গ্রামগঞ্জে। তারা অস্থায়ী দোকান বসিয়ে বিক্রি করেন দা-বঁটি। স্থানীয় মানুষও হাতের কাছে এসব পেয়ে সন্তুষ্ট। একজন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা বলেন, “দিনে ৪-৫ হাজার টাকার বিক্রি হয়। ঈদের আগে দুই সপ্তাহে ভালো আয় হয়।”

তবে কামাররা বলছেন, ঈদের ব্যস্ততা শুধু সাময়িক। সারা বছর ঠিকমতো আয় রোজগার হয় না। প্লাস্টিক বডির ছুরি, যান্ত্রিক যন্ত্রপাতি এবং বিদেশি আমদানি করা পণ্য বাজারে সহজলভ্য হয়ে পড়ায় দেশীয় কামারশিল্প হারাচ্ছে তার ঐতিহ্য।

চারাবাগ বাজারের তরুণ কামার শিপন বলেন, “আমাদের কাজ কঠিন, কিন্তু তেমন মর্যাদা বা সম্মান নেই। নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আসতে চায় না। সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও প্রযুক্তির সহায়তা দিত, তাহলে হয়তো কামারপেশা বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হতো।”

ঈদুল আযহার এই সময়ে দেশের হাজারো কামার পরিবার আবারও নতুন আশায় বুক বাঁধে। তারা জানেন, এই ক’দিনের ব্যস্ততা সাময়িক হলেও, এটি তাদের জীবনের রসদ জোগায়। প্রয়োজন শুধু রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিকীকরণের ছোঁয়া—তাহলেই হয়তো এই শিল্প আবারো ফিরে পাবে তার প্রাচীন গৌরব।

Please Share This Post in Your Social Media

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাভার প্রতিনিধি। ​শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুর ৩ টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম সবুজের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে নজরুল ইসলাম সবুজ বলেন শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। দেশে আইনের শাসনের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে।” বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশন ও বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। বলেন, আজ নারী ও শিশুরা ঘরে কিংবা বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। বক্তারা অনতিবিলম্বে রামিসা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে জনসম্মুখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অন্যথায়, সাধারণ শ্রমিকদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও রাজপথ কাঁপানো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। উক্ত প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন: ইয়াসিন আরাফাত (সভাপতি, সাভার থানা কমিটি) শ্রী রবিন চন্দ্র রায় (সহ-সভাপতি)তনিমা হামিদ সুমি (সাধারণ সম্পাদক)নাজমুল ইসলাম রাকিব (দপ্তর সম্পাদক)মোছাঃ মুন্নী খাতুন (নারী বিষয়ক সম্পাদক)মোছাঃ মনিরা খাতুন (অর্থ বিষয়ক সম্পাদক)এস রহমান (কার্যকরী সদস্য)এ সময় বিভিন্ন পোশাক কারখানার ইউনিয়নভুক্ত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও স্থানীয় সাধারণ জনতা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৮২৪৯০৯০১০

ঈদুল আযহা উপলক্ষে বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা

আপডেট: ০৪:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
বিশেষ প্রতিনিধি: মুজাহিদ খাঁন কাওছার

ঈদুল আযহার আগমনী বার্তা নিয়ে দেশের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের কামারপট্টিগুলোতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি তৈরির ধুম। বছরজুড়ে অপেক্ষাকৃত নিস্তরঙ্গ সময় কাটানো কামাররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক এলাকায় যেখানে বছরের অন্যান্য সময় চুল্লি নিভে থাকত, সেখানে এখন আগুনের লেলিহান শিখা আর লোহার ঠুকঠাক শব্দে মুখর চারপাশ।

সাভার ও আশুলিয়ার নামা বাজার, গেন্ডা, হেমায়েতপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, পলাশবাড়ী, জিরাবো, জামগড়া, নরসিংহপুর, বলিভদ্র, কলমা, দোসাইদ, ঘোষবাগ ও নলাম ঘোড়া পীর মাজারসহ বিভিন্ন কামারপট্টিতে গিয়ে দেখা গেছে, অনেকেই ছুরি বা বঁটি ধার করাতে ভিড় করছেন। কেউ কেউ আবার অর্ডার দিচ্ছেন নতুন দা, চাপাতি বা ছুরি বানানোর জন্য। গড়ে প্রতিদিন ১৫-২০টি অর্ডার নিচ্ছেন একজন কামার।

আলম নামের এক অভিজ্ঞ কামার বলেন, “ঈদের আগে চাপ বেড়ে যায়। এখন প্রতিদিন গড়ে ১৫ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। লোহা, আগুন আর ঘামে আমাদের দিন কেটে যায়।”

তবে ব্যস্ততার মাঝেও আছে কিছু চ্যালেঞ্জ। লোহার দাম গত কয়েক বছরে ৩০–৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে। সেইসঙ্গে কয়লা ও অন্যান্য কাঁচামালের সংকট বেড়েছে। কিন্তু প্রতিযোগিতার বাজারে দাম বাড়াতে পারছেন না কামাররা।

আশুলিয়া বাজারের কামার হাফিজুর রহমান জানান, “লোহার দাম বাড়লেও পুরোনো দামের আশেপাশেই জিনিস বিক্রি করতে হয়। অনেক সময় লাভ না হলেও পুরোনো ক্রেতার কথা ভেবে কাজ করি।”

এই সময়টায় অনেক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা পণ্য নিয়ে ঘুরে বেড়ান গ্রামগঞ্জে। তারা অস্থায়ী দোকান বসিয়ে বিক্রি করেন দা-বঁটি। স্থানীয় মানুষও হাতের কাছে এসব পেয়ে সন্তুষ্ট। একজন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা বলেন, “দিনে ৪-৫ হাজার টাকার বিক্রি হয়। ঈদের আগে দুই সপ্তাহে ভালো আয় হয়।”

তবে কামাররা বলছেন, ঈদের ব্যস্ততা শুধু সাময়িক। সারা বছর ঠিকমতো আয় রোজগার হয় না। প্লাস্টিক বডির ছুরি, যান্ত্রিক যন্ত্রপাতি এবং বিদেশি আমদানি করা পণ্য বাজারে সহজলভ্য হয়ে পড়ায় দেশীয় কামারশিল্প হারাচ্ছে তার ঐতিহ্য।

চারাবাগ বাজারের তরুণ কামার শিপন বলেন, “আমাদের কাজ কঠিন, কিন্তু তেমন মর্যাদা বা সম্মান নেই। নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আসতে চায় না। সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও প্রযুক্তির সহায়তা দিত, তাহলে হয়তো কামারপেশা বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হতো।”

ঈদুল আযহার এই সময়ে দেশের হাজারো কামার পরিবার আবারও নতুন আশায় বুক বাঁধে। তারা জানেন, এই ক’দিনের ব্যস্ততা সাময়িক হলেও, এটি তাদের জীবনের রসদ জোগায়। প্রয়োজন শুধু রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিকীকরণের ছোঁয়া—তাহলেই হয়তো এই শিল্প আবারো ফিরে পাবে তার প্রাচীন গৌরব।